kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী বললেন

ক্ষমতা মানে মানুষের সেবা করা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ক্ষমতা মানে মানুষের সেবা করা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে দেশের সব গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের সব ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষ ঘর পাবে। একটি মানুষও আর ঠিকানাবিহীন থাকবে না।’ গতকাল রবিবার ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর উপহার দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জাতির পিতা এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘মানুষ একটা ঘর যখন পায়, তার মধ্যে যে আনন্দ, তার মুখে যে হাসি, এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু নেই। আমি মনে করি, আমার জন্য এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা মানে ভোগ বিলাস নয়। ক্ষমতা হলো মানুষের সেবা করা। মানুষের জন্য কাজ করা।’

গত জানুয়ারিতে প্রথম পর্যায়ে ৬৯ হাজার ৯০৪টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার পর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে গতকাল আরো ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের ৪৫৯টি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব মানুষকে ঘর দেওয়ার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জমির দলিল ও ঘরের চাবি উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে আমি যেহেতু যেতে পারিনি। আমার পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ডিসি ও ইউএনও জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেবেন।’ তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্যই মানুষ। মানুষের জন্য, তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে পারাটাই সব থেকে বড় কথা।’

‘আমাদের দেশটা দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ’—সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এই লোকগুলোকে ঘরবাড়ি করে দেওয়া এবং জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘরবাড়ি নির্মাণে আমরা প্রশাসনের ওপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী—যাঁদেরকেই দায়িত্ব দিয়েছি তাঁরা অনেক আন্তরিকতার সঙ্গে সেই কাজগুলো করেছেন।’ এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

দলিলে জমির মালিকানা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নামে স্থায়ী দলিলের পাশাপাশি নামজারি করে খাজনা দাখিলাও দেওয়া হয়েছে। সেমিপাকা ঘরে আছে দুটি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট। পাশাপাশি সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও আছে। প্রকল্প এলাকায় বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ও রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করায় তাঁর সরকারের লক্ষ্য পূরণে সব থেকে বেশি যে জিনিসটি দরকার সেটি হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

জাতির পিতা ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ১০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে শুরু করেছিলেন, উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, তাঁর সরকার পরবর্তীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে ৩০ প্রকারের ওষুধও বিনা মূল্যে প্রদান করা হচ্ছে সেখান থেকে। পাশাপাশি, মাতৃত্বকালীন সেবা, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান, ল্যাকটেটিং মাদারকে ভাতার আওতায় নিয়ে আসা এবং শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হারও তাঁর সরকার কমাতে পেরেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ছিন্নমূল মানুষকে একটা ঠিকানা করে দেওয়ার মাধ্যমে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই করে দেওয়ার এই প্রকল্পকে কেবল আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমেই নয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নানাবিধ প্রকল্পের মাধ্যমেও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হয়েই সচিব এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বেসরকারি খাতের অনেকে এগিয়ে এসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

তিনি এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সবার ভেতরে এই চেতনা জেগেছে যে, ছিন্নমূল মানুষ যারা বস্তিতে, ফুটপাতে, রেললাইনের ধারে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা যখন একটা আশ্রয় পায় তখন তার জীবনটাই বদলে যায়।’

কভিড-১৯ দ্রুতই যাচ্ছে না, উল্লেখ করে তিনি এ সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। যাতে এই ভাইরাস একজনের কাছ থেকে অপরজনকে সংক্রমিত করতে না পারে। পাশাপাশি তিনি সরকারের টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার এবং আরো জোরেশোরে শুরু করার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিহীনদের জন্য খাসজমি বণ্টনে জাতির পিতার শুরু করে যাওয়া ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর তাঁর সরকার ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বিতরণ এবং গৃহহীন-ভূমিহীনকে ঘর করে দেওয়ার ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের শুরু করে। ১৯৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে এ দেশে কেবল লুটপাটের রাজনীতিই করে গেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই করেনি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসিত করার কাজটা শুরু করি এবং এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখের কাছাকাছি ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ঘর দিতে সক্ষম হয়েছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, অর্থনৈতিক নীতিমালায় আমরা তৃণমূলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমরা গ্রাম পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া, তাদের খাদ্য, শিক্ষা ও বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও কেউ গৃহহীন থাকলে আমাদের জানাবেন। আমরা তাদের বাড়ি করে দেব। আমি মনে করি, এতটুকু করতে পারলে বাবার (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) আত্মা শান্তি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি পুরো বাংলাদেশ ঘুরেছি, গ্রাম-গঞ্জ, মাঠ-ঘাটে গেছি। কোথায় কী সমস্যা জানি। আওয়ামী লীগ অধিকার নিয়ে কাজ করে। জাতির পিতা মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

উপকারভোগীদের সঙ্গে কথোপকথনে মৌলভীবাজারের কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহি গ্রামের বীরাঙ্গনা বয়োজ্যেষ্ঠা নারী শিলা গুহসহ বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভিডিও কনফারেন্সে নিজস্ব অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।

শিলা গুহ নতুন বাসগৃহে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালে প্রধানমন্ত্রী সাদরে সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। সূত্র : বাসস।