kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রাধিকার পায়নি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রাধিকার পায়নি

মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বানসংবলিত ঐতিহাসিক এক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। তবে সেই প্রস্তাবে গুরুত্ব পায়নি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং এর জন্য পরিবেশ সৃষ্টির প্রসঙ্গ। নিউ ইয়র্কের একটি সূত্র গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানায়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রাধিকার না পাওয়ার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ ওই প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘অ্যাবস্টেইন’ ভোট দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, শরণার্থীবিষয়ক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হয়েও বাংলাদেশ মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

মিয়ানমার নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, তবে এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি এই প্রস্তাবে অগ্রাধিকার পায়নি। সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের রূপরেখা না থাকলে যেকোনো প্রস্তাব ব্যর্থ হবে।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, মিয়ানমারে সংকটের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সংকট মিয়ানমারের এবং এর সমাধান মিয়ানমারেই।

জানা গেছে, গত শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার নিয়ে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১১৯টি। বিপক্ষে একমাত্র ভোটটি দিয়েছে বেলারুশ। ৩৬টি দেশ ওই প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান না নিয়ে ‘অ্যাবস্টেইন’ ভোট দিয়েছে। ওই দেশের মধ্যে আছে বাংলাদেশসহ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অপর চার প্রতিবেশী ভারত, চীন, লাওস ও থাইল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশগুলো প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও ‘অ্যাবস্টেইন’ ভোট দিয়েছে রাশিয়া। বিভক্তি স্পষ্ট আসিয়ান দেশগুলোর ভোটেও। কেউ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি। আসিয়ানের চারটি দেশ (ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, লাওস ও থাইল্যান্ড প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘অ্যাবস্টেইন’ ভোট দিয়েছে। মিয়ানমারসহ আসিয়ানের অন্য দেশগুলো প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। উল্লেখ্য, সু চির সরকারের সময় নিয়োগ করা জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধিই এখনো সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূত স্বদেশে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শিকার হয়েছেন।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রদূত চিয়াও মোয়ে তুনও এই প্রস্তাবকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব গ্রহণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দীর্ঘসূত্রতায় তিনি হতাশ। জানা গেছে, গৃহীত প্রস্তাবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তার প্রতিও নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অং সান সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমাতে সহিংসতা না চালানোরও আহ্বান জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই প্রস্তাব মেনে চলার ব্যাপারে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তার পরও এ ধরনের প্রস্তাব গৃহীত হওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গনার সাধারণ পরিষদকে বলেন, মিয়ানমারে একটি বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাটি বাস্তব রূপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে ক্ষমতা জনপ্রতিনিধিদের কাছে ফিরিয়ে আনার সুযোগ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠছে।

প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘অ্যাবস্টেইন’ ভোট দেওয়া বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র মিয়ানমারের সংকটকে ওই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছে। কেউ কেউ আবার রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি প্রস্তাবে উল্লেখ না থাকার কথাও বলেছে।

প্রস্তাবটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তুলেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উলুফ স্কুগ বলেন, এই প্রস্তাব মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। জনগণের ওপর তাদের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে এবং বিশ্বের চোখে তাদের একঘরে করে দিয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা