kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

আজ থেকে আবার টিকা

মৃত্যু ৫৪, শনাক্ত ৩৮৮৩

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আজ থেকে আবার টিকা

দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ার মধ্যেই আজ শনিবার থেকে আবার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৫৪ জন। এ সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৮৮৩ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মারা গেছে ১৩ হাজার ৩৯৯ জন। আর নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আট লাখ ৪৪ হাজার ৯৭০ জনের।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের খবর দেয় সরকার। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী সব টিকা না পাওয়ায় এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ পায়নি অন্তত ১৪ লাখ মানুষ। টিকাসংকটের কারণে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় সরকার চীনসহ আরো কয়েকটি দেশের তৈরি টিকা দেশে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।

এরই মধ্যে চীনের দেওয়া উপহারের ১১ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। গত ১২ মে প্রথম দফায় পাঁচ লাখ ডোজ এবং ১৩ জুন দ্বিতীয় দফায় ছয় লাখ ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের এই টিকা এর আগে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া সরকারের হাতে ফাইজারের এক লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আছে। কথা ছিল সিনোফার্ম ও ফাইজারের টিকা গণহারে দেওয়ার কাজ একসঙ্গে শুরু করা হবে। আজ থেকে সিনোফার্মের টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে, কিন্তু ফাইজারের টিকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

সিনোফার্মের এই টিকা ১০ ক্যাটাগরির মানুষকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর বাদ রাখা হয়েছে ছয় ক্যাটাগরির মানুষকে।

যে ১০ ক্যাটাগরির মানুষকে আজ থেকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন টিকার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে এরই মধ্যে যাঁরা নিবন্ধন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত টিকা পাননি। এ ছাড়া অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্য, যাঁরা আগে টিকা নেননি; অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মী, যাঁদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) নিবন্ধন কিংবা কার্ড আছে; সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী; সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি এবং সরকারি ম্যাটস ও সরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থী; সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আওতাধীন ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সরকারি প্রকল্পে (পদ্মা সেতু প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রো রেল প্রকল্প, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্প, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র) সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সারা দেশে করোনায় মৃতদের সৎকারে নিয়োজিত ওয়ার্ড/পৌরসভার কর্মী এবং বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকরা পাবেন এই টিকা। সিনোফার্মের টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করার চার সপ্তাহ বা ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যাবে।

এই টিকা দেওয়ার তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে ছয় ক্যাটাগরির মানুষকে। তারা হলো ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স, টিকা গ্রহণের সময় জ্বর থাকলে বা অসুস্থ থাকলে, টিকাজনিত অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে, প্রথম ডোজ গ্রহণের পর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে, অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ঘা, অ্যাজমা, কিডনি রোগ, ডায়ালিসিস নিচ্ছে এমন ব্যক্তি, ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠী। এ ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় চারটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে দেওয়া হবে সিনোফার্মের টিকা। হাসপাতালগুলো হচ্ছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এই চারটি হাসপাতালে একটি করে টিকাকেন্দ্র থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে দুটি করে বুথ।

অন্যদিকে ঢাকার বাইরে প্রতিটি জেলায় একটি করে টিকাকেন্দ্র হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে বুথ থাকবে। ১৫০ থেকে ২০০ জনের জন্য একটি বুথ থাকবে। ২০০ জনের বেশির জন্য দুটি বুথ থাকবে। তবে যেসব জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেই, সেসব জেলায় করোনার টিকা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের যেকোনো একটিকে কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেবেন সিভিল সার্জন। টিকাকেন্দ্র শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুসারে, আগে যদি কোনো ব্যক্তি করোনার টিকা নিয়ে থাকেন তাহলে তিনি এই টিকা নিতে পারবেন না। নিবন্ধন ছাড়া কেউ টিকা নিতে পারবেন না। তা ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে প্রথম ডোজ নিয়ে এসে বাংলাদেশে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে এ টিকা দেওয়া যাবে না। সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, সরকারি ম্যাটস ও সরকারি আইএইচটির শিক্ষার্থীরা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের তথ্য লিপিবদ্ধ করে টিকা নিতে পারবেন। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র ‘সুরক্ষা’ ওয়েব পোর্টালে/অ্যাপে নিবন্ধন করে নিতে হবে।

গতকাল দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছে এক হাজার ৯৫৫ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে সাত লাখ ৭৮ হাজার ৪২১ জন। এ সময় মোট ২১ হাজার ৩৭৩ জনের নমুনা সংগ্রহ এবং ২০ হাজার ৮৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯টি। পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩.৪৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৫ এবং নারী ১৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫, ঢাকায় ১২, রাজশাহীতে ১২, খুলনায় আট, বরিশালে চার, সিলেটে দুই এবং ময়মনসিংহে একজন মারা গেছে।

 



সাতদিনের সেরা