kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে দৃষ্টি সরকারের

রাজস্ব ছাড়, কারখানা-হিমাগার নির্মাণে মিলবে জমি

ফারজানা লাবনী   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে দৃষ্টি সরকারের

বিভিন্ন ফল উৎপাদনে দেশে এক ধরনের বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে সারা বছরই ফলছে নানা ধরনের ফল। কিন্তু সংরক্ষণের যথাযথ সুযোগ না থাকায় উৎপাদিত এসব ফলের বড় একটি অংশই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিপ্রক্রিয়াও জোর পাচ্ছে না। ক্ষতির মুখে পড়ছেন উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। এ অবস্থায় প্রথমবারের মতো ফলসহ কৃষিজ পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারখানা ও হিমাগার নির্মাণে জায়গাও বরাদ্দ দেবে সরকার।

আগামী অর্থবছরে প্রথমবারের মতো দেশে উৎপাদিত ফলমূল, শাক-সবজি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগ এক কোটি টাকা হলে কর অবকাশ সুবিধা বাড়ানো হতে পারে। বিনিয়োগকারীকে প্রথম ১০ বছর কর অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে শর্ত রয়েছে, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বিডার নিবন্ধিত ও কাঁচামালের সবটা দেশে উৎপাদিত হতে হবে। উৎপাদনকারী কারখানার পরিবেশ বা পণ্যের মানের কারণে দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের শাস্তির মুখোমুখি হলে এই সুবিধা মিলবে না।

রাজস্ব ছাড়ের পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প নির্মাণে সরকার জমি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি কারখানার অব্যবহৃত জায়গা এসব শিল্প নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প সরকারি-বেসরকারি যৌথভাবে বা সরকারি উদ্যোগে করার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে সরকারি ১৫টি চিনিকলের কোনো একটির মধ্যে কতটা জায়গা অব্যবহৃত রয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে। এ বিষয়ে দ্রুতই কাজ শুরু হচ্ছে। কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মধ্যে মৌসুমি ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারি কারখানার অব্যবহৃত জায়গায় হিমাগার স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কারখানার অব্যবহৃত জায়গায় নতুন নতুন শিল্প গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। তিনি এ ক্ষেত্রে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দিতে বলেন। বিশেষভাবে ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নিতে বলেন। এ বিষয়ে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন বিনিয়োগ বোর্ডের তৎকালীন নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ অন্যরা। সে সময় প্রাইভেটাইজেশন কমিশন থেকে সরকারি ৩৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সীমানার মধ্যে শিল্প নির্মাণে অব্যবহৃত এক হাজার ২৮৮ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। পরে আরো ৪০টি সরকারি কারখানার মধ্যে আরো প্রায় ১৪ হাজার একর অব্যবহৃত জায়গা চিহ্নিত করে কমিশন। ২০১২ সালে নেওয়া ওই উদ্যোগ অনেকখানি এগিয়েও তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার আপত্তির মুখে থেমে যায়।

করোনা মহামারিতে দেশের শিল্প খাতে অনেকটা বিপর্যয় নেমে আসে। আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহে প্রতিবন্ধতা দেওয়া দেয়। করোনার প্রকোপ কবে কমবে তারও নিশ্চয়তা নেই। এমন পরিস্থিতিতে দেশে সহজে কাঁচামাল পাওয়া যায় এমন কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে সরকার ফল প্রক্রিয়াকরণ খাতে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ও এর বাইরে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ব্যাপক সুবিধা দেওয়ায় এই খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। এতে করোনায় আক্রান্ত অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। গ্রামে থাকা বেকার এবং শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়া কর্মহীনদের বড় ধরনের কর্মসংস্থান হবে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, এক এলাকায় উৎপাদিত ফল অন্য এলাকায় স্থাপিত কারখানায় পরিবহন করতে গিয়ে অনেক ফল নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য মৌসুমি ফল বেশি উৎপাদন হওয়া এলাকাগুলোতে সংশ্লিষ্ট ফল প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে না তুললে লোকসানে পড়তে হয়। এই শিল্প গড়ে তুলতে সুবিধা মতো জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। সরকার মৌসুমি ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তুলতে সুবিধা মতো জায়গা দিলে অনেক উদ্যোক্তা আগ্রহী হবেন।

ব্যবসায়ী এই নেতা আরো বলেন, মৌসুমি ফল সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে বড় ধরনের হিমাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন। তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা মৌসুমে ফল কিনে অর্থের বিনিময়ে সেখানে সংরক্ষণ করতে পারবেন।

 



সাতদিনের সেরা