kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

কেন্দ্রের কঠোর নির্দেশ

তৃণমূলের কোনো কমিটি ভাঙতে পারবেন না হুইপ সামশুল

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তৃণমূলের কোনো কমিটি ভাঙতে পারবেন না হুইপ সামশুল

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী পটিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের কমিটি নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে মতের অমিল হলে থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন কোনো পর্যায়েই কেউ নেতৃত্বে থাকতে পারছেন না। নিজের শতভাগ অনুগত না হওয়ায় এরই মধ্যে পটিয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে দলের কমিটি ভেঙে দিয়েছেন সামশুল হক।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁরা সামশুল হকসহ পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ঢাকায় ডেকে তৃণমূলের আর কোনো কমিটি যেন না ভাঙা হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, দলের পটিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামানের সঙ্গে যোগসাজশ করে কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দিয়েছেন সামশুল হক। অথচ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে যে তৃণমূলের কোনো কমিটি ভেঙে দিতে হলে আগে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এমন নির্দেশনা অমান্য করে সামশুল হক ওই ইউনিয়ন কমিটিগুলো ভেঙে দেন।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের বিষয়ে আলোচনা হয়। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পটিয়ার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সম্মেলন এবং নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা পটিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেওয়া কেন্দ্রের নির্দেশনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো তৃণমূল কমিটি ভেঙে দেওয়া না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন তাঁরা।

এর আগে গত ২ জুন জাতীয় সংসদ ভবনে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং সেখানকার সংসদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানেও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বন্ধ করতে নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

গত বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খেপে যান পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা আপনার জানার প্রয়োজন কী? এখানে আমার দলের ভালোমন্দ আমি বুঝতেছি। যেটা ভালো সেটা করতেছি। আর এটা তো সেটেল হয়ে গেছে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, সামশুল হক জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে এসে এলাকায় নিজের একক আধিপত্য তৈরি ও ধরে রাখতে মরিয়া চেষ্টা করছেন। তাঁর ছেলে শারুন চট্টগ্রামের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ঔদ্ধতপূর্ণ আচরণ করেন। পটিয়ায় তৃণমূল আওয়ামী লীগের কেউ এসব নিয়ে কথা বললেই দলে কোণঠাসা হয়ে যান। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। উপজেলা আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বও সামশুল হকের কথায় ওঠে-বসে। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় নেতারা অবহিত হয়েছেন বলেই পটিয়ায় তৃণমূল আওয়ামী লীগের কোনো কমিটি না ভাঙতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

হুইপ সামশুল হকের অন্যায় আধিপত্য বিস্তার ও নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত বুধবার চট্টগ্রামে সামশুল হকের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ-সমাবেশে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘হুইপ ও তাঁর ভাই নবাব এবং ছেলে শারুন পটিয়াতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। পটিয়ার যত বড় বড় প্রকল্প ছিল সেখান থেকে ২০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন সামশু। কেউ সেখানে মাথা তুলে কথা বলতে পারে না। একসময় জাতীয় পার্টি করা সামশু এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা। কথায় কথা মুক্তিযোদ্ধাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, অপমান করেন। আমি হুইপ সামশুর এমপি পদ থেকে পদত্যাগ দাবি করছি।’



সাতদিনের সেরা