kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

মে মাস পর্যন্ত ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আয়ে চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আয়ে চমক

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। আর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাসে আয় হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। অর্থবছরের এক মাস বাকি থাকতেই গত বছরের মোট আয়কে ছাড়িয়ে গেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। রাজস্ব আয়ে এককভাবে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

শুধু মোট রাজস্ব আয়েই নয়, গত অর্থবছরের ১১ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ২০ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। চলতি জুন মাস শেষ হলে এই প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে। করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের মধ্যেই রাজস্ব আয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হলো চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত অর্থবছরের মে মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের মে মাসে আমরা ২০ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। করোনা মহামারির কঠিন সময়ে যখন সব কিছু স্থবির ছিল, সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির বদলে আমরা বাড়তি রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। জুন মাস শেষে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও গত অর্থবছরের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করব।’

রাজস্ব আদায়, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, রাজস্ব ফাঁকি রোধ, চোরাচালান বন্ধ, দ্রুত পণ্য শুল্কায়ন এবং কাস্টমসের কাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি আমি কাস্টমসের কাজে স্বচ্ছতা আনা, অনিয়ম রোধে কঠোরহস্ত ছিলাম।’

কাস্টমসের হিসাবে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট ৬৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেই হিসাবে মে মাস পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৪৪ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার। করোনা মহামারির মধ্যে এ পর্যন্ত আসাটা অনেক বড় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয় গত বছরের আদায়ের ওপর। করোনা মহামারির সময় বিবেচনায় রাখলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং।

তাঁরা বলছেন, প্রতিবছর বাজেটে শুল্কহারে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। উচ্চ শুল্কের যে পণ্য আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসত, এখন সেটি আসছে না। অন্য বন্দর দিয়ে ছাড় হচ্ছে। আর চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত ছিল জ্বালানি তেল, গাড়ি আমদানি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী। ওই তিনটি খাতেই আমদানি অনেক কমেছে। এ ছাড়া দেশে বিপুল ভোগ্য পণ্য আমদানি হলেও সেই পণ্যে শুল্কহার অতি অল্প। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বর্তমান রাজস্ব আয় ও প্রবৃদ্ধি ভালো বলেই মনে করছেন তাঁরা।    

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, ‘করোনার ধাক্কা সব খাতেই পড়েছে। ফলে আমদানি কমেছে, রপ্তানিও কম ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জের মধ্যেই শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সাহস না দেখাতেন, তাহলে রাজস্ব আয় যেমন কমত, পুরো অর্থনীতিই বিপর্যস্ত হতো। মানুষ চাকরিহারা হতো, অনাহারে থাকতে হতো।’

তিনি বলেন, ‘যে গতিতে আমরা এগোচ্ছি, সেটিকে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যবসা অব্যাহত থাকলে পণ্য আমদানি হবে; কারখানার চাকা ঘুরবে; বন্দর সচল থাকবে। রাজস্বও বাড়বে।’

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বড় নির্ভরতা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। গত অর্থবছরে ৪১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার রাজস্ব জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এ ছাড়া প্রতিবছর অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব জোগান দেয় এই কাস্টম হাউস। এত কিছুর পরও ৪৮ শতাংশ কম লোকবল দিয়ে চলছে রাজস্ব আয়ে এককভাবে শীর্ষে থাকা এই হাউস।

চলতি জুনের ১ তারিখের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মঞ্জুর হওয়া এক হাজার ২৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৪৭ জন। শূন্যপদ রয়েছে ৬০১টি। অনুমোদিত পদের তুলনায় শূন্যপদের হার ৪৮.১৬ শতাংশ।

জনবল কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ২১০ জনবলের বিপরীতে শূন্যপদ ৯৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৯৭ জনবলের বিপরীতে শূন্যপদ ২৩১টি, তৃতীয় শ্রেণির ৪২৩ জনবলের বিপরীতে শূন্যপদ ২৫৪টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ১১৮ জনবলের বিপরীতে শূন্যপদ আছে ২২টি।

 

 



সাতদিনের সেরা