kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের আয়তন ও বাঘের সংখ্যা বাড়ছে

‘মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই’ কথাটি চিরতরে বিলুপ্ত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুন্দরবনের আয়তন ও বাঘের সংখ্যা বাড়ছে

সরকারের পদক্ষেপে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের আয়তন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বাঘের সংখ্যাও। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। সারা দেশে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই’ কথাটি চিরতরে বিলুপ্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সদস্য বেগম সুলতানা নাদিরার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। যে কারণে দেশের উন্নয়নে যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের আয়তন বাড়ানোর জন্য সরকার কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে এর বিস্তৃতি ঘটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বৃক্ষ এবং বন্য প্রাণী রক্ষার জন্য তথা বন অপরাধ দমনের জন্য স্মার্ট পেট্রোলিংসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে ২০১৫ সালের বাঘশুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬। ২০১৮ সালের শুমারিতে এই সংখ্যা ১১৪। সুন্দরবনের কার্বন মজুদের পরিমাণ ২০০৯ সালের ১০৬ মিলিয়ন টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ১৩৯ মিলিয়ন টন হয়েছে। তিনি জানান, সুন্দরবনে এখন ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্য প্রাণী পাওয়া যায়। বন্য প্রাণীর মধ্যে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, আট প্রজাতির উভচর, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে।

সুন্দরবনের গাছপালা ও বন্য প্রাণী রক্ষায় বনকর্মীদের যুগোপযোগী করে তুলে তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথাও জানান সরকারপ্রধান। তিনি জানান, যথাযথ পদক্ষেপের কারণে সুন্দরবন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের তালিকা করা হয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি। আর জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন পরিবার রয়েছে পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি। ‘দেশের একজন মানুষও ভূমিহীন থাকবে না’—এই ঘোষণা বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে। তিনি জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ২৩ জানুয়ারি ৬৫ হাজার ৪০টি  ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ জুন আরো ৫৩ হাজার ৩৪০টি ঘর দেওয়া হবে।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভিক্ষুক, বেদে ও হিজড়া জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারদলীয় সদস্য আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেসব স্থানে অবস্থান করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেসব স্থান বিশেষভাবে সংরক্ষণের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ বাজার ও ফরিদপুরের আম্বিকা ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।

সরকারি দলের সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের ৪৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করেছে। এটি অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাংবাদিকদের আবাসনের জন্যও বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের গণমাধ্যমকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রেখেছে সরকার। সরকার ২০১৩ সালে অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান সংসদ নেতা। প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষপণের ফলে গণমাধ্যম অঙ্গন শক্তিশালী হয়েছে। দেশে টিভি চ্যানেলগুলো এখন অনেক কম খরচে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।



সাতদিনের সেরা