kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

বাইডেন-পুতিন বৈঠক আজ

তলানিতে ঠেকা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নজর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তলানিতে ঠেকা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নজর

১৬ জুলাই ২০১৮ থেকে ১৬ জুন ২০২১—এই তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক এক জায়গায় থেমে থাকেনি। ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের আবহের সঙ্গে তাই সুইজারল্যান্ডের জেনেভার আজকের আলাপ-আলোচনার মেজাজ মিলবে না। রাশিয়া প্রশ্নে ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের অবস্থান অনেকটাই কঠোর। ফলে বাইডেন-পুতিনের প্রথম এই বৈঠকের দিকে সারা বিশ্বেরও থাকছে বাড়তি মনোযোগ।

এমন সময় এই নেতারা আলোচনা টেবিলে মুখোমুখি হচ্ছেন, যখন দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। দুই নেতার সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়বস্তুসহ কোন কোন বিষয়ে তাঁদের মতৈক্য হতে পারে অথবা কী কী নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত থাকতে পারে, এসব নিয়ে ভাষ্যকারদের মধ্যেও রয়েছে নানা মত। তবে মোটা দাগে পাঁচটি বিষয় রয়েছে বেশি আলোচনায়—পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র, মানবাধিকার, সাইবার নিরাপত্তা, বেলারুশ ও ইউক্রেন এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায় পরস্পরের কোনো রাষ্ট্রদূত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা, রাশিয়ায় বিরোধীদের ওপর জেল-জুলুমসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মস্কোর ওপর একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। রাশিয়াও তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলার জোরালো অভিযোগ তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রে বিরুদ্ধে। দুজন সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে রাশিয়ার কারাগারে বন্দি। সব মিলিয়ে বলা হচ্ছে রীতিমতো ‘কূটনৈতিক যুদ্ধে’ লিপ্ত দুই দেশ।

ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাফাই গেয়ে বলেছিলেন, মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেনি। তবে আজকের বৈঠকটি সন্দেহাতীতভাবে হেলসিংকির বৈঠকটির মতো হবে না বলেই বিশ্লেষকদের মত। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, রাশিয়ার ব্যাপারে বাইডেনের অবস্থান কঠোর। তাঁর এ মনোভাবের আঁচ পড়তে পারে বৈঠকে। গত মার্চে এক সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর সাক্ষাত্কার গ্রহণকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে একমত হন, পুতিন আসলে ‘একজন খুনি’। বাইডেনের এ মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে বৈরিতাকে আরো জোরালো করেছে। এত কিছুর পর তাই বাইডেন ও পুতিনের মুখোমুখি বসার বিষয়টিকে বড় অর্জন বলে মনে করেন অনেকে।

দুই নেতার মধ্যকার বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তার কিছুটা আভাস অবশ্য উভয় পক্ষ থেকেই পাওয়া গেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হবে দুই নেতার মধ্যে। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা, মানবাধিকার, ইউক্রেন, বেলারুশ প্রভৃতি প্রসঙ্গ।

আর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উভয় প্রেসিডেন্ট আলোচনা করবেন। তাঁরা আলোচনা করবেন কৌশলগত স্থিতিশীলতার বিভিন্ন ইস্যুতে। বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত-সহিংসতা নিরসনের উপায় নিয়েও কথা বলবেন তাঁরা। করোনা মহামারি মোকাবেলাসহ আন্তর্জাতিক সমস্যাও তাঁদের আলোচনার বাইরে থাকবে না।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির প্রসঙ্গ বৈঠকে তুলতে পারেন বাইডেন। নাভালনিকে গত বছরের আগস্টে ‘নার্ভ এজেন্ট’ প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ জন্য মস্কোকে দায়ী করা হলেও তারা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নাভালনি বর্তমানে কারাগারে বন্দি। জার্মানিতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে জেনেভার বৈঠকে উভয় নেতা ঐক্যের একটি সাধারণ ক্ষেত্র খোঁজার চেষ্টা করবেন বলে বেশির ভাগ পর্যবেক্ষক বিশ্বাস করেন। দুই দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক বিরাজ করছে, তার উন্নতি ঘটানোর ইচ্ছা উভয় পক্ষেই লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনার চেষ্টা করবেন বাইডেন-পুতিন। করোনা মহামারি, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁরা একমত হতে পারেন।

তবে বাইডেন-পুতিন বৈঠক থেকে নাটকীয় কোনো ফল সেভাবে আশা করছেন না কেউই। সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে দুই দেশকেই। আর এ জন্য সময় দিতে হবে যথেষ্টই।



সাতদিনের সেরা