kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

করোনা ঠেকাতে কঠোর হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা ঠেকাতে কঠোর হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত সপ্তাহে সার্বিক পরিস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয়ভাবে করোনা মোকাবেলায় আরো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কোনো এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হলে সেসব এলাকায় চলাচলসহ অন্যান্য কার্যক্রম কঠোরভাবে বন্ধ করে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে বলেছেন সরকারপ্রধান।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন দেওয়া চলমান লকডাউনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য বিধি-নিষেধের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে লকডাউন আরোপের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনের পাঁচটি নির্দেশনার চতুর্থটিতে বলা হয়েছে, ‘কভিড-১৯-এর উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন জেলাসমূহের জেলা প্রশাসকগণ সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে স্ব স্ব এলাকার সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।’

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন নির্দেশনার বিষয়টি বৈঠকের পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। করোনাভাইরাসের টিকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, টিকা নিয়ে আলোচনা চলছে, ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে।’

খন্দকার আনোয়ার জানান, করোনাভাইরাস নিয়ে মোটামুটি আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াও এ বিষয়ে নিয়মিত আলাপ হয়। স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিসহ সব ধরনের সরকারি চ্যানেলে বলা আছে, তারা স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াও হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাইরাসটি সারা দেশে সমানভাবে ছড়াচ্ছে না। তাই যেখানে যেমন প্রয়োজন তেমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে দিনাজপুরের সংক্রমণ একটু বেড়েছে। যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটু কমে এসেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত বিদ্যমান আছে। চলমান লকডাউন বাড়বে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, আরো তো দুই দিন সময় আছে, দেখা যাক।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের নারী কর্মকর্তাদের বাদ রাখতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘আমিও সংবাদমাধ্যম থেকে এই তথ্যটি জেনেছি। এ বিষয়ে অফিশিয়ালি কিছু জানি না। জেনে তারপর কথা বলব।’ এর পরও সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চাইলে ধর্মীয় প্রসঙ্গের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘হাদিসে অনেক বিষয় রয়েছে যার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় উল্টোটাও হয়। তাই এ বিষয়টা না জেনে মন্তব্য করা যাবে না।’

অটোমোবাইল নীতিমালা অনুমোদন : মন্ত্রিসভায় ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২১’-এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়নের একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমরা শুধু আমদানি করব না। তাই নিজেদেরও কিছু বিষয় উন্নয়ন করার চেষ্টা চলছে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে, অটো যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশীয় শিল্পকে বিকশিত করা; স্থানীয় অটোমোবাইল উৎপাদনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করা, যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। জাপানের একটি বিখ্যাত কম্পানি বাংলাদেশেই গাড়ি উৎপাদন করতে চায়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে গণপরিবহন নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালে সেতু বিভাগের সচিব থাকার সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় সাবওয়ে নির্মাণের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই কাজের অনেকটা এগিয়েছে। ঢাকার চারপাশের ওয়াটার সার্কুলার রোড করার জন্যও পরিকল্পনা আছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সেতু উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

গতকালের বৈঠকে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এটি অধ্যাদেশ থেকে শুধু আইনে পরিণত করা হয়েছে। কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। এর বাইরে ওআইসির উইমেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডাব্লিউডিও) সদস্য পদ গ্রহণ এবং এসংক্রান্ত একটি সংবিধি স্বাক্ষর ও অনুসমর্থনের প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।