kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

কাজের মান নিশ্চিত করতে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না

এ কে এম এনামুল হক শামীম, উপমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কাজের মান নিশ্চিত করতে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না

নদীভাঙন, বন্যা আর জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসব এলাকায় বাঁধ নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ঠিকাদার সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শনিবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক তৈমুর ফারুক তুষার।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। নদীভাঙনকবলিত এলাকা শরীয়তপুরের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাঙনের দুঃখ-বেদনার প্রত্যক্ষদর্শী। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শামীমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সারা দেশের নেতাকর্মীদের বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে। ফলে নদীভাঙনের শিকার মানুষগুলো সহজেই তাদের বিপদের কথা তাঁকে জানাতে পারে।

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘কভিড মহামারির মধ্যেও আমরা নিয়মিত বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করছি। প্রতি সপ্তাহেই আমরা কোথাও না কোথাও পরিদর্শনে যাই। আমি যাই, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী যান, সচিব যান। আমি যেহেতু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পদে ছিলাম, সে কারণে বিভিন্ন জেলায় ট্যুর করা আমারই বেশি হয়।’

সম্প্রতি সাতক্ষীরায় জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে যাওয়া প্রসঙ্গে এনামুল হক শামীম বলেন, ‘আমরা কিন্তু সব জায়গায়ই কাজ চলমান রেখেছি। সাতক্ষীরায় সর্বশেষ যে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেখানে কাজ চলছে। সেখানে এলাকার লোকজন কাজ করছে। তবে সব কিছু সরবরাহ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সাতক্ষীরায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমরা ৩৯টি পয়েন্টে কাজ করেছিলাম। এবারের ঝড়ে কিন্তু সেখানে ৩৮টিই অক্ষত আছে। শুধু একটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা গেছে। উপকূল এলাকায় এই সমস্যা সমাধানে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়।’

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমে যখনই কোথাও সমস্যার সংবাদ দেখি সেটাকে আমলে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি। ময়মনসিংহের ভালুকায় ফ্যাক্টরির বর্জ্যে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বায়ুদূষণের বিষয়ে শুক্রবার কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পরদিন শনিবারই আমি ভালুকায় পরিদর্শনে যাই। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ফ্যাক্টরি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করি। খালগুলো প্রশস্ত করার নির্দেশ দিই। ফ্যাক্টরি মালিকরা কিভাবে নদী-খাল দূষণ বন্ধ করবেন তা নিয়ে আলোচনা করি।’

বর্ষা মৌসুমে সরকারের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে এনামুল হক শামীম বলেন, ‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন নদীভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অনেক। প্রতিবছরই বন্যা-জলোচ্ছ্বাসে বহু এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে আমরা নিয়মিত এগুলো মোকাবেলায় কাজ করি। সব সময়ই আমাদের বিশেষ প্রস্তুতি থাকে।’

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপমন্ত্রী শামীম বলেন, ‘আমাদের ১৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে উপকূলেই আছে ছয় হাজার ৭০০ কিলোমিটার। আমাদের এখন অর্থনৈতিক সামর্থ্য বেড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। পুরনো বাঁধগুলো উঁচু ও প্রশস্ত করছি। নদীশাসন ও ড্রেজিংয়ের কাজও চলছে, যেন নদীর স্বাভাবিক গতিধারা ঠিক থাকে। উপকূল এলাকায় পাঁচ ফুট উঁচু বাঁধ ছিল। সেগুলো আরো উঁচু করে দিচ্ছি। সর্বশেষ জোয়ারের সময় পানির যে উচ্চতা ছিল সে অনুযায়ী বাঁধ উঁচু করা হচ্ছে। বাঁধগুলোতে বনায়ন করছি, যেন টেকসই হয়।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপমন্ত্রী বলেন, ‘কাজের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য আমাদের শক্তিশালী টাস্কফোর্স রয়েছে। কাজের মান ঠিক না থাকলে আমাদের কর্মকর্তা বা ঠিকাদার যে-ই হোক তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। এ রকম বহু উদাহরণ আছে। অনেক ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছি যেন তাঁরা আর কাজ না পান।’

শামীম বলেন, ‘আরেকটি কাজ আমরা বেশ কিছুদিন ধরে করছি। সেটা হলো, কোনো ঠিকাদারকে একসঙ্গে বেশি কাজের ভার না দেওয়া। আলাদা আলাদা ঠিকাদারকে কাজ দিচ্ছি, যেন তাঁরা দ্রুত ও মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিত করতে পারেন। কাজের গতি বাড়াতে সব দিক থেকেই চেষ্টা করছি। প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন দ্রুততার সঙ্গে করতে যা যা করণীয় সব করছে সরকার।’

উপমন্ত্রী বলেন, ‘আগে ঢাকায় বসেই অনেক প্রকল্প নেওয়া হতো। এখন সেসবের সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ নিশ্চিত করেছি। এখন প্রকল্পের কাজেও ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কম। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে এখন আমরা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করেছি। সেখানে প্রতিনিয়ত কাজের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ রাখা হয়। চাইলেও কেউ ফাঁকি দিতে পারে না। কঠোর নজরদারির ফলে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।’

সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে এনামুল হক শামীম বলেন, ‘বিএনপি তো আসলে এখন কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তারা নিজেরা দল হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি; আর পারবেও না। প্রধানমন্ত্রীর ক্যারিশমার কাছে বিএনপির এখন আর কোমর সোজা করে দাঁড়ানোর শক্তি নেই। তারা এখন হতাশায় নিমজ্জিত একটি রাজনৈতিক দল। খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, তারেক রহমানও সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপি জামায়াতনির্ভর হয়ে, গুজব ছড়িয়ে, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছে। কিন্তু কোনোটাই তো সম্ভব হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে বলেই বিএনপির কোনো সমালোচনা বা ষড়যন্ত্র আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।’