kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

শ্রদ্ধাবোধ স্বকীয়তা সহনশীলতা হারিয়ে যাওয়ার ফল

ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শ্রদ্ধাবোধ স্বকীয়তা সহনশীলতা হারিয়ে যাওয়ার ফল

সমাজে বিদ্যমান নানা অসুস্থ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হয় চরম এক অবক্ষয়। উন্নতি ও আধুনিকায়নের বিপরীতে মানুষের মননশীলতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে অসুস্থ সব মূল্যবোধ। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ব্যবস্থাপনার মধ্যেই এখন আর আগের মতো সুস্থ ও মানবিক বোধের চর্চা নেই। রাষ্ট্রের করণীয় জায়গায় অনেক ঘাটতি থাকলেও রাষ্ট্র কিন্তু শাস্তিও দিচ্ছে। তবে অবস্থা এতটাই খারাপ পর্যায়ে গেছে যে অবক্ষয়ের কবলে পড়া মানুষ নামের চরিত্রগুলো ওই শাস্তি দেখেও ভয় পায় না। যারা একটি অপরাধের শাস্তি ও আইনের দিকগুলো জেনেও সেই অপরাধ ঘটায়, তখন তাদের অসচেতন বলা যাবে না। তারা সচেতনভাবেই ওই অপরাধ করছে।

নিজের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলেই কিংবা সেই স্ত্রী আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেই তাকে মেরে ফেলতে হবে, তার সন্তানকে মেরে ফেলতে হবে কিংবা যার সঙ্গে ওই মেয়েটি সম্পর্কে জড়িয়েছে তাকে মেরে ফেলতে হবে, তার সন্তানকে মেরে ফেলতে হবে কিংবা যার সঙ্গে ওই মেয়েটি সম্পর্কে জড়িয়েছে তাকে মেরে ফেলতে হবে—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের সম্পর্ক তো এমনি এমনি ভেঙে যায়নি, নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারণ তো ছিলই, সেটা যেদিক দিয়েই হোক। মেয়েটিরও তো সিদ্ধান্তের স্বকীয়তা থাকতেই পারে। সেই সিদ্ধান্তের প্রতি মানবিক সম্মানটুকু তো থাকতে হবে।

এই তিনজনকেই মেরে ফেলা হলো—এর শাস্তি কী হতে পারে, সেটা ওই হত্যাকারীও জানে। ফলে এটা রীতিমতো আত্মহননও বটে।

এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনে মূলত দায়ী হচ্ছে মানবিক সম্পর্ক বোধের বড় ঘাটতি। ‘সম্পর্ক’-এর অনেক ধরনের ভেরিয়েশন আছে। সেটা বোঝার বোধ তৈরি হয় ছোট সময় থেকে পরিবার ও স্কুলের মাধ্যমে। সমাজও এসব শেখায়। এ ক্ষেত্রে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, স্বকীয়তা, সহনশীলতার ঘাটতির ফলে ঘটে এমন ঘটনা। কিন্তু এখন এসব নেই; হারিয়ে গেছে বলেই কিছু মানুষ ঠিক আর মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।

ডা. আনোয়ারা বেগম (আনোয়ারা সৈয়দ হক), মনোরোগের অধ্যাপক ও সাহিত্যিক