kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

বিটুমিনের আমদানি শুল্ক বাড়ানো জরুরি

মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ, বিটিটিসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিটুমিনের আমদানি শুল্ক বাড়ানো জরুরি

আমদানি করা বিটুমিনের গুণগত মান ঠিক থাকছে না। অতিরিক্ত মুনাফা করতে গিয়ে অনেকেই নিম্নমানের পণ্য আনছে। পক্ষান্তরে দেশেই এখন উন্নত মানের বিটুমিন উৎপাদিত হচ্ছে। এই শিল্পকে সহায়তা দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) চেয়ারম্যান মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ এমন মন্তব্য করেছেন।

বিটিটিসির চেয়ারম্যান গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিটুমিন আমদানি, দেশে এর উৎপাদন ও সম্ভাবনা নিয়ে নানা কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমদানিকারকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না দেশীয় উদ্যোক্তা। দেশীয় শিল্পকে রক্ষার জন্য আমরা মনে করি বিটুমিন আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো জরুরি। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাবের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এনবিআর কী করছে এখনো জানতে পারিনি।’

শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দেশের রাস্তাঘাটের অবস্থা তো আপনারা জানেন। রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে এক বৃষ্টিতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আর সেই রাস্তা সংস্কার করতে গিয়ে বছর বছর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তার পরও স্বস্তি মিলছে না। একটি রাস্তা নষ্ট হওয়ার কারণে কত রকম জটিলতা সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। অথচ বারবার বলেও বিটুমিনের মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমদানিকারকরা মুনাফা বেশি করতে নিম্নমানের পণ্য দেশ আনছে।’

বিটিটিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশেই এখন উন্নত মানের বিটুমিন উৎপাদিত হচ্ছে। বেসরকারি একটি কম্পানি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কারখানা স্থাপন করেছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে দক্ষিণ এশিয়ায় এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারখানা আর একটিও নেই। এই কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানও অনেক ভালো। এই কারখানা উৎপাদিত বিটুমিন সংগ্রহ করে পাঁচটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখেছি। প্রতিটি ল্যাবই উন্নত মান নিশ্চিত করেছে। জানতে পেরেছি যে এই কম্পানি তাদের উৎপাদিত বিটুমিনে বিশেষ এক ধরনের মেডিসিন মেশাবে, তাতে বৃষ্টি হলেও বিটুমিন উঠে যাবে না। হাতের নাগালে এমন সুযোগ থাকার পর তা ছাড়ব কেন?’

বিটিটিসির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘দেশে একটি কম্পানি এত কিছু করার পরও সাপোর্ট না দিলে তা জাস্টিফাই হয় না। পলিসি সাপোর্ট না দিলে দেশীয় উদ্যোক্তা বের হবে না।’ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা কি সারা জীবন শুধু আমদানি করেই চলব? দেশে কোয়ালিটিসম্পন্ন পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। আমরা চাই একসময় এক্সপোর্ট হোক বিটুমিন। আর সেই উদ্যোক্তা বেরিয়ে আসার জন্য সাপোর্ট দেওয়া দরকার। তাই বাল্ক আমদানিতে ডিউটি বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ এবং ড্রামে করে আমদানিতে ৪৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছি।’

শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দেশীয় উদ্যোক্তাকে সহায়তা দিলে কয়েক দিক থেকে সুবিধা হবে। মানসম্মত পণ্য পাচ্ছি; রাস্তাঘাট বছর বছর মেরামত করার প্রয়োজন পড়বে না; বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে রাষ্ট্রের; জনগণের দুর্ভোগ কমে আসবে। আবার কাজের মান খারাপ হলে ঠিকাদারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে থাকে। তাঁরাও নিরাপদ থাকবেন।’

বাংলাদেশে বার্ষিক বিটুমিনের চাহিদা রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। সেই চাহিদা প্রতিবছর ১১ থেকে ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বাই প্রডাক্ট হিসেবে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন বিটুমিন উৎপাদন করছে। বাকি পুরোটাই এত দিন ছিল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ২০২০ সালে বিটুমিনাস ক্রুড আমদানি করে বিটুমিন উৎপাদন শুরু করেছে একটি বেসরকারি কম্পানি। তাদের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে সাড়ে চার লাখ টন।

এনবিআরে পাঠানো ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, আমদানি শুল্ক হারের তারতম্যের কারণে দেশে উৎপাদিত বিটুমিনে প্রতি টনের দাম পড়ছে ৫৭ হাজার ২৮৯ টাকা। অন্যদিকে নিম্নমানের বিটুমিন আনায় আমদানিকারকদের খরচ পড়ছে ৪১ হাজার ৭৩৯ টাকা। এতে দেশীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অসম প্রতিযোগিতায় পড়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। কিন্তু ফিনিশ বিটুমিন আমদানিতে কোনো রকম ভ্যাট দিতে হয় না।