kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

ইউপি নির্বাচন

নোয়াখালীতে এক দিনে দুই খুন

লক্ষ্মীপুরে আহত ১৫

নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নোয়াখালীতে এক দিনে দুই খুন

প্রতীকী ছবি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে নোয়াখালীতে এক দিনে প্রাণ গেল দুজনের। গত বুধবার দুপুরে সুবর্ণচরে এবং ওই দিন মধ্যরাতে হাতিয়ায় খুন হওয়া দুজনের একজন সমর্থক, অন্যজন প্রার্থী ছিলেন। এ ছাড়া একই দিন পাশের জেলা লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দুই ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

সুবর্ণচরে নিহত ওমানপ্রবাসী মো. কামাল উদ্দিন (৩৩) চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাজী মোখলেস গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে। তাঁকে দিনদুপুরে রামদা দিয়ে কুপিয়ে প্রতিপক্ষ ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ইসমাইল ও আবুল কালাম নামের দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নিহত রবীন্দ্র চন্দ্র দাস (৪২) চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। একই এলাকার তালুকদার গ্রামের সতীশ মহাজনের ছেলে রবীন্দ্র উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতিও ছিলেন।

সুবর্ণচরের চরওয়াপদা ইউনিয়নের স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুরে চরকাজী মোখলেস গ্রামের মালেকের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন কামাল। এ সময় একই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামি মৃত সফি মিয়ার ছেলে মো. মাইন উদ্দিন, মো. রফিক, মো. ইসমাইল, আব্দুর রহীম, জসিম, ছায়েদুল হক সাদুর ছেলে জসিম উদ্দিন তুষার, আহসান উল্লাহ, রুহুল আমিনের ছেলে আবুল কালাম এবং সেলিমের ছেলে মাসুদ তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা করে। হামলাকারীরা কামালের মাথায় উপর্যুপরি রামদা দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা কালু মিয়া প্রতিবাদে এগিয়ে গেলে তাঁকেও কোপানো হয়। কামালের মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে চলে যায় তারা। আহত কামালকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১১টায় মারা যান।

নিহত কামালের ছোট ভাই বেলাল হোসেন জানান, তাঁর ভাই দুই মাস আগে দেশে আসেন। তিনি চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীনের পক্ষে এলাকায় ভোট চান। এতে অন্য তিন প্রার্থীর রোষানলে পড়েন। গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় কাজী নূরনবী দরবেশের বাজারে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুর রহীম ও তাঁর সমর্থকরা কামালকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বেলাল জানান, এই নির্বাচন নিয়ে এর আগেও কামালের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের একটি মামলায় কামাল ২৪ দিন কারাগারেও ছিলেন। ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুর রহীম, সেলিম মেম্বার ও মাসুদের নির্দেশে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চরজব্বার থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় ইসমাইল ও আবুল কালাম নামের দুজনকে তাত্ক্ষণিক আটক করা হয়েছে।

রবীন্দ্র হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আল আমিন জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে তিনি ও রবীন্দ্র মোটরসাইকেলে করে বাংলাবাজার থেকে ওসখারী বাজারে যাচ্ছিলেন। পেছনে আরো দুটি মোটরসাইকেল ছিল। তাঁদের মোটরসাইকেলটি নন্দ রোডের চর ইশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের পুরনো বাড়ির সামনে এলে একদল সন্ত্রাসী তাঁদের দিকে গুলি ছোড়ে। তিনি দৌড়ে পালিয়ে গেলেও রবীন্দ্র পালাতে পারেননি। রবীন্দ্র মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। হামলাকারীদের মধ্যে তিনি আবদুল হালিম আজাদের ছেলে অমি, ভাতিজা সোহেল, রহিম ডাকাত ও নিজাম ডাকাতকে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন আল আমিন।

নিহত রবীন্দ্রের ভগ্নিপতি নৃত্যলাল দাস জানান, হামলাকারীরা প্রথমে রবীন্দ্রকে গুলি করে, পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তাঁর হাতের কবজি ও পায়ের রগ কেটে ফেলে রেখে যায়। টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবীন্দ্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে রবীন্দ্র মারা যান।

জানতে চাইলে চর ইশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদ জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয় দাবি করে আবদুল হালিম বলেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংঘর্ষে আহত ১৫ : প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির বিবিরহাটে বুধবার রাত ৮টার দিকে চররমিজ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শারাফত আলী ভূঁইয়ার মিছিল থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম দিদারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দিদারের কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের ধাওয়া দেন। খবর পেয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসতে শুরু করেন। পরে তাঁরা দুই দফা হামলা-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় নির্বাচনী কার্যালয়সহ অন্তত পাঁচটি দোকান ও সাত-আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় দুই প্রার্থী একে অন্যকে দুষছেন।

রামগতি থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক আছে বলে জানান তিনি।