kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

সিলেটে এবার দেড় মিনিটে দুই দফা ভূমিকম্প

সিলেট অফিস   

৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটে এবার দেড় মিনিটে দুই দফা ভূমিকম্প

এবার সিলেটে দেড় মিনিটের মধ্যে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম দফা এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে দ্বিতীয় দফায় কেঁপে ওঠে সিলেট। এর আগে গত ২৯ মে সাতবার এবং ৩০ মে একবার জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এত ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ায় সিলেটের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

গতকালের ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা সম্পর্কে তাত্ক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মমিনুল ইসলাম জানান, ‘রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৮। ঢাকা থেকে ১৮৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ছিল এর উৎপত্তিস্থল।’ তিনি জানান, ‘ভূমিকম্পের অবস্থান ছিল ২৪.৮১ অক্ষাংশে এবং ৯১.৮৫ দ্রাঘিমাংশে।

পরপর দুবার ভূমিকম্পে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অনেকে অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নগরের চৌহাট্টা এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমিকম্প হয়েছে ১০ মিনিট আগে। কিন্তু তার পরও বিল্ডিংয়ের ভেতরে যেতে ভয় লাগছে। যদি আবার শুরু হয়।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বড় ভূমিকম্পের আভাস হতে পারে। আগামী দিনে বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। দুর্যোগ মোকাবেলায় সিলেট সিটি করপোরেশন ১৭ সদস্যের একটি দুর্যোগকালীন কমিটি গঠন করেছে। নেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে।

এ ছাড়া ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি থাকার কারণে সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে নগরের ২৩টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিসিক। এর মধ্যে বেসরকারি ভবনের পাশাপাশি সরকারি ও সিসিকের মালিকানাধীন ভবন

রয়েছে।

এর বাইরে সিসিকের পক্ষ থেকে সিলেট নগরের ছয়টি বিপণিবিতান, একটি দোকান ও একটি আবাসিক ভবন আগামী ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে নগরের বন্দরবাজার এলাকার মধুবন সুপারমার্কেট, সমবায় ভবন, সিটি সুপারমার্কেট, জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, সুরমা মার্কেট ও জেন্টস গ্যালারি। ৮ জুন পর্যন্ত এগুলো বন্ধ থাকার কথা থাকলেও গতকাল আবার ভূমিকম্প হওয়ায় এ মেয়াদ বাড়তে পারে।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দফায় দফায় ভূমিকম্পের ঘটনা খুবই অ্যালার্মিং। এটা কোনোভাবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তাই বড় ভূমিকম্প হলে যাতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা যায়, সে জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।’