kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

এবার চীনের সিনোভ্যাকের অনুমোদন

এ নিয়ে পাঁচ টিকার অনুমোদন পেলেও প্রাপ্যতা নিয়ে সংকট কাটছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এবার চীনের সিনোভ্যাকের অনুমোদন

একে একে পাঁচটি টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ। সবার আগে অনুমোদন পেয়েছিল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড। আর সর্বশেষ গতকাল রবিবার অনুমোদন পেল চীনের সিনোভ্যাক টিকা। মাঝে অনুমোদন পেয়েছে রাশিয়ার স্পুিনক-ভি, চীনের সিনোফার্মের করোনাভ্যাক। এ ছাড়া ফাইজার-বায়োনটেকের টিকাও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে এসেছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম ও ফাইজারের টিকা। প্রথমোক্ত দুটি টিকার প্রয়োগও শুরু হয়েছে। আর ফাইজারের টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা চলছে। বাকি দুটি কবে আসবে, আর কবে নাগাদ তা প্রয়োগ শুরু করা যাবে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারছে না সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কবে, কিভাবে নির্মূল হবে না হবে তা এখনো অজানা। এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি আর টিকা—এই দুটি উপায় করোনা থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে টিকা যত দ্রুত সংগ্রহ করা যাবে, যত বেশি মানুষকে তা দেওয়া যাবে এবং সেই সঙ্গে যত বেশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যাবে ততই নিরাপদ থাকা যাবে। রোগী ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

রোগতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছেই। এ ক্ষেত্রে সুরক্ষার তিনটি উপায় বেশি জরুরি। প্রথমত, শনাক্ত সব রোগীর ব্যবস্থাপনা; দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং তৃতীয়ত, সবার টিকা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে সবার টিকা নিশ্চিত করা গেলে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকবে না। উন্নত বিশ্বের কিছু কিছু দেশ বেশি বেশি টিকা দিতে পেরেছে বলেই সেখানে সংক্রমণ কমে এসেছে। আমাদের এখানেও সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে বলে জানি। তবে নানা জটিলতায় তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুসারে, সরকারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি টিকার বুকিং দেওয়া রয়েছে কোভেক্সের কাছে, ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ। এগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে পাওয়া গেছে মাত্র এক লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ কেনা আছে।

রাশিয়ার কাছ থেকে দেড় কোটি ডোজ ও চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে আরো দেড় কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে এর মধ্যে সেরামের কাছ থেকে কেনা তিন কোটি ডোজ থেকে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ডোজ। পাশাপাশি ভারত সরকার উপহার দিয়েছে ৩২ লাখ ডোজ এবং চীন সরকার থেকে উপহারের ১১ লাখ ডোজের মধ্যে এখন পর্যন্ত দেশে এসেছে পাঁচ লাখ ডোজ। আরো ছয় লাখ ডোজ আগামী ১৩ জুন আসার কথা রয়েছে। এর বাইরে সরকার চার-পাঁচটি দেশের কাছে ২০ লাখ করে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক কোটি ডোজ টিকা আপৎকালীন সহায়তা হিসেবে চেয়ে রেখেছে। পাশাপাশি দেশের দু-তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কয়েক লাখ ডোজ টিকা আনার কাজ শুরু করেছে। সব মাধ্যম মিলেমিশে চলতি মাসের মধ্যে দেশে ৫০ লাখ ডোজের বেশি টিকা আসার প্রস্তুতি রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র জানায়।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এখন সরকারি-বেসরকারি সব মহল থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছি। সবার সহায়তা নিয়েই দেশের মানুষের টিকা নিশ্চিত করতে চাই। এমনকি প্রবাসী অনেকের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করছি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের সহায়তা করছেন।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চীনের সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্স কম্পানি উৎপাদিত কভিড-১৯ টিকা করোনাভ্যাক দেশে ব্যবহারের জন্য ওই কম্পানির পক্ষে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের  পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাকসিনটির ডোসিয়ার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পার্ট, সিএমসি পার্ট এবং রেগুলেটরি স্ট্যাটাস) মূল্যায়ন করে কভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য জরুরি ওষুধ, ইনভেস্টিগেশনাল ড্রাগ, ভ্যাকসিন এবং মেডিক্যাল ডিভাইস মূল্যায়নের জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত ৩ জুন জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। ভ্যাকসিনটি এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি চীন সরকার অনুমোদন দেয়, যা আরো ২২টি দেশে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া গত ১ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই টিকার অনুমোদন দেয়। ভ্যাকসিনটি ১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য ব্যবহারযোগ্য।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সিনোভ্যাক টিকা এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া পঞ্চম টিকা। এটি বাংলাদেশ সরকারের টিকা প্রয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের ব্যক্তিদের দেওয়া হবে। দুই ডোজসম্পন্ন এই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের দুই বা চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এর সংরক্ষণ তাপমাত্রা দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) ডা. শামসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ফাইজারের টিকা কবে থেকে কাদের দেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ-কালের মধ্যে ফাইজারের টিকার মিশ্রন উপাদান দেশে এসে পৌঁছার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গতকাল পর্যন্ত দেশে এক কোটি দুই লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার মধ্যে এক কোটি ৩৬ হাজার ৭১১ ডোজ খরচ হয়েছে। এর মধ্যে দুই ডোজ করে পেয়েছে ৪২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৬ জন।



সাতদিনের সেরা