kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ভালো থাকাও টিকা না পাওয়ার কারণ!

মেহেদী হাসান   

৩০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালো থাকাও টিকা না পাওয়ার কারণ!

বিশ্বের কভিড ‘হটস্পট’ এখন দক্ষিণ এশিয়া। তবে ভারতের কভিড সংক্রমণ হার কমে এখন দৈনিক শনাক্ত প্রায় দুই লাখ, মৃত্যু সাড়ে তিন হাজারের বেশি। ভারতসহ অন্য অনেক দেশের তুলনায় কভিড পরিস্থিতি বেশ ভালো আছে বাংলাদেশের। কিন্তু এই ভালো থাকাটা বাংলাদেশের জন্য বিদেশ থেকে কভিডের টিকা উপহার বা মঞ্জুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু কভিড টিকা অন্য দেশগুলোকে দেবে—এমন তথ্য পেয়ে সরাসরি যোগাযোগ করেছিল বাংলাদেশ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যাতে বাংলাদেশকে টিকা দেয়, সে জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিরাও কাজ করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, অসমর্থিত সূত্রে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তালিকায় নেই বাংলাদেশ। যাদের কভিড পরিস্থিতি বেশি খারাপ, তারাই আছে অগ্রাধিকার তালিকায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশের মূল শঙ্কা এখন অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে। নতুন চালান না পেলে কয়েক লাখ মানুষের টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো হন্যে হয়ে সেই টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ‘কোভ্যাক্স’ উদ্যোগে ভারত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহ করতে না পারায় বড় সংকট তৈরি হয়েছে। আজ রবিবার কোভ্যাক্স থেকে ফাইজারের প্রায় এক লাখ ডোজ টিকা আসবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, যেসব দেশে এখনো টিকা দেওয়া শুরু করা যায়নি, সেই দেশগুলো কোভ্যাক্সের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

তবে রয়টার্সের এক হিসাবে দেখা গেছে, জনসংখ্যা অনুপাতে কভিড টিকার অন্তত একটি ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ অঞ্চলে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। কভিড পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা ভারতে ‘পিকের’ সময় সংক্রমণের হার ছিল ৫৬ শতাংশ। দেশটিতে কভিডে মৃত্যুর ৯৪ শতাংশ হয়েছে পিকের সময়। ভারত এরই মধ্যে তার মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশকে কভিডের টিকার অন্তত এক ডোজ হলেও দিতে পেরেছে। শ্রীলঙ্কায় কভিড সংক্রমণ বাড়ছে। ওই দেশও তার মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ টিকা দিতে পেরেছে। নেপাল তার মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশকে কভিড টিকা দিয়েছে। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত তার মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশকে টিকা দিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, চীনের কাছ থেকে টিকা কেনার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার প্রাক্কালে দেশটি বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার দিয়েছে। আগামী দিনে আরো ছয় লাখ ডোজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশে কভিড পরিস্থিতি খুব খারাপ না হওয়ায় আপাতত অন্য দেশগুলো থেকে উপহার বা মঞ্জুরি হিসেবে বড় সংখ্যায় টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

নয়াদিল্লিতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কভিডে বিপর্যস্ত হওয়ার আগে ভারত বাংলাদেশকেই সবচেয়ে বেশি টিকা সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে তিন দফায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার মোট ৩৩ লাখ ডোজ। এর বাইরে বাণিজ্যিকভাবে ভারত বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ৭০ লাখ ডোজ সরবরাহ করেছে। আগামী মাসগুলোতে ভারতে কভিড পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও টিকা রপ্তানি শুরু হবে।