kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত উপহার প্রদানে বাধা হুইপ সামশুলের

মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সুবিধাবঞ্চিতদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত উপহার প্রদানে বাধা হুইপ সামশুলের

করোনা মহামারিতে কাজ হারিয়ে জীবন-জীবিকা সচল রাখতে নিরুপায় হয়ে ওঠেন অনেকে। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতাকর্মীদের নিজস্ব তহবিল থেকে সারা দেশের সুবিধাবঞ্চিত গরিব শ্রেণির জন্য উপহারসামগ্রী প্রদানের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারা দেশে নির্বিঘ্নে বিতরণ চলছে সেই উপহারসামগ্রী। কিন্তু বাদ সাধলেন চট্টগ্রামের পটিয়ার সাংসদ হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। পটিয়াতে এসব উপহারসামগ্রী বিতরণের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিতে চেয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, শনিবার সকালে পটিয়ার উত্তর গোবিন্দরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপহারসামগ্রী বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেয় ‘পঁচাত্তর পরবর্তী বৃহত্তর ছাত্রলীগ পটিয়া’ নামে একটি সংগঠন। সব প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন ছিল। সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে হাজির হন সুবিধাবঞ্চিত পাঁচ শতাধিক মানুষ। উপস্থিত হন মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অতিথিরাও। যেই না অনুষ্ঠান শুরু হবে, অমনি হুইপ সামশুলের নির্দেশ আসে, এখানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে না। এ নির্দেশ শুনে থ হয়ে যান অতিথি এবং উপস্থিত লোকজন।

জানা যায়, নিরুপায় হয়ে আয়োজকরা তখন উপহারসামগ্রী নিয়ে স্থানান্তর হন পটিয়ার আমির ভাণ্ডার পুরাতন বাড়ির মাদরাসার মাঠে। তীব্র গরমের মধ্যে উপস্থিত হওয়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষও সেখানে যেতে বাধ্য হন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারসামগ্রী বিতরণেও এ ধরনের বাধা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত সবাই। তাঁরা বলেন, হুইপ সামশুল রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বাধার সৃষ্টি করেছেন। এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন সারা দেশে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে, সেখানে কার এত সাহস এখানে অনুষ্ঠান পণ্ড করে। কে সেই ঠাকুর, যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারসামগ্রী বিতরণে বাধা দেয়? সেই ঠাকুরের যদি এতই দরদ থাকত, তাহলে তো সে বলতে পারত মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আমিই তাদের পাশে দাঁড়াই। সে বলতে পারত, কারো আসার দরকার নেই, আমিই সবার ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেব, বস্ত্র পৌঁছে দেব।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠান করেছি। আমরা সুন্দরবন থেকে বান্দরবান, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সবখানে প্রধানমন্ত্রীর উপহারসামগ্রী নিয়ে পৌঁছেছি। কোথাও কেউ বাধা দেয়নি। সারা দেশে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে এই উপহারসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছি, কোথাও কোনো অনুমতির প্রয়োজন পড়েনি। অনুমতি তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়ে রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন সারা দেশে গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সেখানে আর কারো অনুমতির দরকার পড়ে না।’

স্থানীয় সাংসদ ও হুইপ সামশুল হকের উদ্দেশ্যে এই যুবলীগ নেতা বলেন, ‘এটি ধৃষ্টতা, এটি বেয়াদবি। সরকারপ্রধানের সঙ্গে এটি চরম বেয়াদবি। আপনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা কোথাও নামতে পারবে না। আপনি নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে দেন না, এ জন্য তো আপনাকে এমপি বানানো হয়নি। আমরা যদি চাই আপনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, এমনকি পটিয়াতেও নামতে পারবেন না। আপনাকে প্রতিহত করা হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আগে থেকেই গোবিন্দরখীল স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান আয়োজনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা ছিল। হঠাৎ করে অনুষ্ঠানের দিন এভাবে পণ্ড করে দেওয়ার ঘটনা মানা যায় না। হুইপ সামশুল হক যে সত্যিকার অর্থে একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা, এ ঘটনায় সেটি আবার প্রমাণিত হলো। তিনি প্রকৃত নেতাদের উপেক্ষা করে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে চলেন। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। তার অন্যায়-অবিচার নিয়ে কথা বলায় একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে চরম অপমান করার ঘটনাও পুরনো নয়। প্রধানমন্ত্রীর কানে এসব খবর পৌঁছানো জরুরি।

সুবিধাবঞ্চিত কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারসামগ্রী পেতে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলাম স্কুল প্রাঙ্গণে। হঠাৎ শুনি এখানকার অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে তীব্র গরমের মধ্যে আবার মাদরাসা মাঠে আসতে হলো। করোনা মহামারির মধ্যে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেলেও এমপি সামশুলের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার এলাকায় এলেও সেটি থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে চেয়েছিলেন এমপি।’

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে পৌঁছানোর দায়িত্ব আমাদের। আমরা এ ধরনের অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে শুনেছি একটি পক্ষ এ ধরনের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত করেছে।’

এদিকে উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল আলিম। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আমিনুর রহমান খান। উদ্বোধক ছিলেন পটিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী মাহাবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পটিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির রাশেদ। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা দেশরত্ন পরিষদের সভাপতি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম জুয়েল। উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা বেলাল শরীফ, সাইফুদ্দীন ভোলা, তৌহিদুল আলম জুয়েল, উজ্জ্বল ঘোষ, মো. হারুন, ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন রাফি প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা