kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা তাঁকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতে পাঠিয়েছিলেন।

নিয়ম অনুযায়ী আদালত বাবুল আক্তারকে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য তিন ঘণ্টা সময় দেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিচারকের খাসকামরায় ছিলেন তিনি। কিন্তু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। এরপর দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাবুলকে বিচারকের খাসকামরা থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় এবং পাঠানো হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পক্ষ থেকে নতুন করে আর রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি।

বাবুল আক্তারকে যখন আদালত ভবনের খাসকামরা থেকে করা হচ্ছিল, তখন পিবিআইয়ের সদস্যরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। মাস্ক পরা বাবুলের গায়ে ছিল কালো রঙের পাঞ্জাবি। গত ১২ মে যখন তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল, সেদিনও পরনে ছিল কালো রঙের এই পাঞ্জাবি। মাস্ক পরা অবস্থায় বাবুলকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। দোতলা থেকে নামানোর সময় এক পর্যায়ে তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে কিছু বলার চেষ্টা করলেও পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যে সুযোগ পাননি। প্রিজন ভ্যানে করে বাবুলকে কারাগারে নেওয়ার সময়ও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

বাবুল আক্তারকে কারাগারে নেওয়ার পর আদালত ভবনে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি, তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নতুন করে রিমান্ড আবেদন করেননি। আসামির কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা পুনরায় রিমান্ড আবেদন জানাবেন।

পিবিআই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বাবুল আক্তার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। মুছা সিকদার তাঁর (বাবুল) সোর্স ছিলেন, এটা স্বীকার করেছেন। মুছা সিকদারকে তিন দফায় তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্য স্বীকার করেছেন। ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার পর প্রথমে পাঁচ হাজার, পরে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বাবুল। আর হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর বিকাশের মাধ্যমে ব্যাবসায়িক বন্ধুর মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন তিন লাখ টাকা। এই তথ্যও বাবুল স্বীকার করেছেন। আবার অন্য কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বাবুল বলেছেন, ‘আপনারা তো সবই জানেন, আমি কী বলব?’

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসির মোড় এলাকায় খুনের শিকার হন বাবুলের স্ত্রী মিতু। ওই সময় তিনি ছেলে মাহিরকে স্কুলে দিতে যাচ্ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবুল বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার দীর্ঘ তদন্তের পর গত ১২ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা। একই দিন বাবুলকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। সেই মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পিবিআই। পরে পাঁচ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওয়াশিম ও আনোয়ার শ্যোন অ্যারেস্ট

মিতু হত্যার ঘটনায় ২০১৬ সালের জুন মাসে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি মো. ওয়াশিম ও আনোয়ারকে এবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা হত্যা মামলায়। গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহান এই আদেশ দেন। ওই দুই আসামি এখন কারাগারে বন্দি হিসেবে রয়েছেন।  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিম ও আনোয়ারকে এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।



সাতদিনের সেরা