kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

ইসরায়েলের বর্বরতা

দুই শতাধিক প্রাণ কেড়ে দ্বিতীয় সপ্তাহে সংঘাত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই শতাধিক প্রাণ কেড়ে দ্বিতীয় সপ্তাহে সংঘাত

ছবি: ইন্টারনেট

দুই শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে গতকাল সোমবার দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়াল ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত। এর আগের দিন রবিবার ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। এদিন সর্বোচ্চ ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে ইসরায়েলের মুহুর্মুহু বিমান হামলায়।

এভাবে সংঘাত চলতে থাকলে তা শুধু ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চল ‘অনিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটে’ ডুবে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। রবিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ এই সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। 

যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় এদিন নিরাপত্তা পরিষদ এ নিয়ে কোনো বিবৃতি দিতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন বলছে, অন্তরালে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান। নিরাপত্তা পরিষদের এমন পদক্ষেপে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চলমান ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিরসনে জোরালো ভূমিকা রাখতে বাইডেন প্রশাসনের ওপর ক্রমে চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, গাজায় এপি ও আলজাজিরা কার্যালয় থাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলের কাছে নথি চাওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ‘হামাসের কার্যক্রম’ চলত বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এ ব্যাপারে কোনো তথ্য-প্রমাণ তিনি দেখেননি জানিয়ে ব্লিংকেন বলেন, ইসরায়েলের কাছে নথি চাওয়া হয়েছে। গত শনিবার ভবনটি রকেট ছুড়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এভাবে গণমাধ্যমের কার্যালয় ধ্বংসে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা চলছে। 

ইসরায়েলের নৃশংস আগ্রাসনের জবাবে ফিলিস্তিন থেকে রকেট হামলাও অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে যে হারে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট হামলা হচ্ছে, তা দেখে বিস্মিত হওয়ার কথা গোপন করেনি ইসরায়েল। রবিবার দেশটির সেনাবাহিনী স্বীকার করে, এবারের সংঘাতে তারা ফিলিস্তিন থেকে সর্বোচ্চ হারে রকেট হামলার মুখে পড়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ মে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস তিন হাজার এক শর মতো রকেট ছুড়েছে। তবে ‘আয়রন ডোম’ নামের বিশ্বের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলোর বেশির ভাগই মাটিতে পড়ার আগে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল।

গতকাল সংঘাতের অষ্টম দিনে ভোররাত থেকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো গাজার বিভিন্ন এলাকায় বোমা ফেলতে শুরু করে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারসহ ৯ জন নেতার  বাসভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হামাসের ১৫ কিলোমিটার গোপন সুড়ঙ্গ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাত্ক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে গতকালের হামলায় গাজার রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজার মেয়র ইয়াহিয়া সারাজ। হামলার পর বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপক ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। পশ্চিম গাজার বাসিন্দা মাদ আবেদ রাব্বো (৩৯) চলমান অবস্থাকে ‘চরম ভীতিকর’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে কখনো এত চরম মাত্রায় হামলা দেখিনি।’ ‘ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বোঝা উচিত যে আমরা সাধারণ মানুষ, যোদ্ধা নই’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানি কাজাত নামের আরেক গাজাবাসী।  গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় সেখানে জ্বালানিসংকট দেখা দিচ্ছে। অনেক এলাকা এরই মধ্যে বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনা বিদ্যুিবহীন হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

মধ্যপ্রাচের শান্তিপ্রক্রিয়ার জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ উপসমন্বয়কারী ল্যান হেস্টিংস জানিয়েছেন, জাতিসংঘকে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহ পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য তিনি ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে এটি নিরাপদ হবে না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

গত রবিবার দিবাগত শেষ রাতে এক ঘণ্টা ধরে দেড় শতাধিক রকেট বৃষ্টির মতো ছোড়া হয়। জরুরি সহায়তা দল ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। গাজা উপত্যকার আল-ওহেদা শহরকে লক্ষ্য করে ৭০টির বেশি রকেট ছোড়া হয়েছে। এতে আবাসিক ভবন, অবকাঠামো ও সড়ক পুরোপুরি বা কোথাও কোথাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



সাতদিনের সেরা