kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

কোয়ারেন্টিনে ভারতফেরত তরুণী ধর্ষিত

► খুলনায় অভিযুক্ত এএসআই গ্রেপ্তার
► পার্বতীপুরে পুলিশকে বাঁচাতে ভিন্ন ধারায় মামলা!

খুলনা অফিস ও পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোয়ারেন্টিনে ভারতফেরত তরুণী ধর্ষিত

খুলনায় কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। খুলনা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) স্থাপিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটেছে গত ১৪ মে। আর অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান পুলিশের একজন এএসআই। তাকে গ্রেপ্তার শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্য ঘটনায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এক বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের একজন কনস্টেবল। তবে তাঁকে ৫৪ ধারায় আটক করা হলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে ২৯ ধারায়।

জানা যায়, খুলনায় কোয়ারেন্টিনে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত ৪ মে ভারত থেকে দেশে আসেন। সেখান থেকে তিনি খুলনা পিটিআই সেন্টারে এসে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। আর ওই সেন্টারেই গত ১ মে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই মোখলেছুর রহমান। গত ১৪ মে পুলিশের এই কর্মকর্তা রক্ষক থেকে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। গতকাল সোমবার খুলনা সদর থানায় ওই তরুণী মামলা করলে পুলিশ মোখলেছুরকে গ্রেপ্তার করে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) (নিঃ) মোখলেছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ১৩ মে রাত ১টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা পিটিআই মহিলা হোস্টেলে কোয়ারেন্টিনে অবস্থানরতদের নিরাপত্তায় কেএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত এএসআই মোখলেছুর রহমান (বিপি নম্বর-৭৭৯৭০৪৭২১০) নিয়োজিত ছিলেন। ডিউটিতে থাকাকালীন এএসআই কোয়ারেন্টিনে অবস্থানরত এক তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন। পরদিন রাতে আবারও ওই তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ওই তরুণী চিৎকার করলে এএসআই মোখলেছুর দ্রুত নিচে নেমে যান। ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কেএমপির ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) আনোয়ার হোসেন জানান, করোনা কোয়ারেন্টিনে ওই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর এএসআই মোখলেছুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতিত তরুণী খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন।

অন্য ঘটনায় পুলিশের এক সদস্যকে ৫৪ ধারায় আটকের পর ২৯ ধারায় মামলা দায়ের করা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বলাবলি হচ্ছে, অভিযুক্ত কনস্টেবলকে রক্ষা করতেই পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ মামলার ধারা বদলে দিয়েছে।

জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত পুলিশ সদস্য (নম্বর-৩৩৫৩১) মিঠুন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর বিধবা মামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মিঠুন তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্প্রতি ছুটি নিয়ে বাড়ি এসে তিনি মামির সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গত রবিবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের থানায় ধরে নিয়ে যায়। পরে ওই নারীর ভাশুরের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ২৯ ধারায় মামলা দায়ের করে। ওই দিনই পুলিশ তাঁদের দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়।

মামলার ধারা বদলের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারোগা মীর শহিদুল ইসলাম থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ওসি মোখলেছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই নারীর ভাশুরের অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত ৫৪ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে ধারা যুুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। মামলার বাদীও পরিবর্তন হতে পারে।’



সাতদিনের সেরা