kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী বললেন

ইতিহাস বিকৃতি আর সম্ভব হবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইতিহাস বিকৃতি আর সম্ভব হবে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অতীতের মতো ভবিষ্যতে আর কখনো বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি সম্ভব হবে না। দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবই।’

গতকাল সেমাবার তাঁর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রারম্ভিক ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ছিল তাঁর ৪০তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস একেবারেই মুছে ফেলা হয়েছিল, পুরো পরিবর্তন। এখন আত্মবিশ্বাস এসে গেছে, ইতিহাস আর কেউ বিকৃত করতে পারবে না, আর মুছতেও পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠকে যুক্ত হন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাধ্য হয়ে ছয় বছর প্রবাসজীবন কাটান শেখ হাসিনা। পরে সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

উল্লেখ্য, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ভারতীয় এয়ারলাইনসের বোয়িং বিমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকার তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো জনতা তাঁকে স্বাগত জানায়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেখ হাসিনা সেদিনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘অনেক ঝড়ঝাপটা এবং বাধা অতিক্রম করেই আমাকে দেশে আসতে হয়েছিল। তখনকার সরকার কিছুতেই আমাকে আসতে দেবে না। আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে ও চিঠিপত্র পাঠিয়ে বিভ্রান্ত করার অনেক চেষ্টাই করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম জাতির পিতার হত্যকারীরাই তখন ক্ষমতায়, খুনিদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। ওই অবস্থায় আমি চলে এসেছি। কিছুই চিন্তা করিনি। কারণ এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে পারে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই স্বাধীনতাকে আমার সফল করতেই হবে, এভাবেই একটা প্রতিজ্ঞা আমার আর রেহানার সব সময় ছিল।’ সেদিনের আবহাওয়া স্মরণ করে বলেন, এসেছিলাম তো ঝড় মাথায় নিয়ে। ৬০ মাইল বেগে ঝড় হচ্ছিল, তখন আমি ট্রাকে। আর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর অবর্তমানে তাঁকে সভাপতি নির্বাচন করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, সভাপতি নির্বাচিত করার বিষয়টি তিনি জানতেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের শক্তিটা হচ্ছে সব থেকে বড় শক্তি। কারণ আমি যখন বাবা-মা, ভাই-বোন হারিয়ে এ দেশে এসেছি ও গ্রাম-গঞ্জে যেখানেই গেছি সাধারণ মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। কাজেই আমার মনে হয়, ওই শক্তিটাই সব থেকে বড় শক্তি ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার দলের নেতাকর্মী অনেকে আজকে নেই। সে সময় যাঁরা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের অনেককেই হারিয়েছি। এর পরও যাঁরা আছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমার ফিরে আসার ব্যাপারে সব থেকে আগে স্টেটমেন্ট দেন ছাত্রলীগের তরফ থেকে ওবায়দুল কাদের। সে তখন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। আর যুবলীগের পক্ষ থেকে আমাদের আমির হোসেন আমু। আর পার্লামেন্টে কথাটা তুলেছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। যদিও তিনি পরে অন্য দলে চলে যান। কিন্তু তিনিই প্রথম আমার ও রেহানার দেশে আসার বিষয়টি তুলেছিলেন।’

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা