kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

শর্ত দরদামে জটিলতা তবু সময়মতো পাওয়ার আশা

তৌফিক মারুফ   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শর্ত দরদামে জটিলতা তবু সময়মতো পাওয়ার আশা

সরকারের নানামুখী তৎপরতায় নতুন কয়েকটি দেশ থেকে টিকা আনা ও একাধিক টিকা দেশেই উৎপাদনের বিষয়ে নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন আটকে আছে দরদাম ও শর্তের জটিলতায়। এর পরও সময়মতো টিকা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন।

সূত্রগুলো বলছে, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে একাধারে দেশে টিকা আমদানি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলেও দামের সুরাহা হচ্ছে না। ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আনার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। বিভিন্ন এজেন্ট সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছে।

সূত্র মতে, টিকা পেতে সরকারের মরিয়া অবস্থার সুযোগ নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কম্পানির এজেন্টরা ইচ্ছামতো শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন; দামও বেশি চাইছেন। কোথাও কোথাও চার মার্কিন ডলারের টিকা ২০ ডলারও চাওয়া হয়েছে। কোনো কোনো কম্পানি ঠিক কবে নাগাদ টিকার শিপমেন্ট করতে পারবে, তা নিশ্চিত না করে চূড়ান্ত চুক্তির আগেই বড় অঙ্কের টাকা দাবি করছে। তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা হিসেবে বিনা মূল্যে কয়েক লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি দেশটির সরকারের কেবিনেট বিভাগে বিবেচনাধীন। এ ছাড়া ভারতের সেরাম থেকে অক্সফোর্ডের বকেয়া টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো হাল ছাড়েনি সরকার। নিয়মিত বিরতিতে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও সেরামের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দেশের সঙ্গে কোনো না কোনো টিকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এমনকি সর্বশেষ চীনের সিনোভ্যাক কম্পানির সঙ্গে দেশে ইনসেপটা ফার্মার উৎপাদনকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। সরকারও এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কূটনৈতিক সমীকরণের মুখে গতকাল সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে যেকোনো দিন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দেওয়া হবে।

টিকা ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় যুক্ত একাধিক সূত্র মতে, সিনোভ্যাকের টিকা দেশে উৎপাদনে ইনসেপটার সঙ্গে ভাগ বসাতে তৎপরতা চালাচ্ছে একাধিক কম্পানি। বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা হচ্ছে মন্ত্রণালয় পর্যায় থেকে। পাশাপাশি দেশে সিনোভ্যাকের টিকা উৎপাদনের পর সরকার কিভাবে ওই টিকা পাবে, কত দাম পড়বে, সিনোভ্যাক কত পাবে, এসব বিষয় নিয়ে শেষ পর্যায়ের কিছু জটিলতা রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। শিগগিরই হয়তো এ বিষয়ে সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, টিকা কেনার পাশাপাশি দেশেই টিকা উৎপাদন করতে চায় সরকার। এ জন্য কাজ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে এ ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

দেশে উৎপাদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনে চার-পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। তবে চীন সরকারের দেওয়া পাঁচ লাখ ডোজ টিকার প্রথম ডোজ আগামী ২৫ মে থেকে দেওয়া শুরু হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারের সঙ্গে এদিন বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টিকা চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল তা তাদের সক্রিয় বিবেচনাধীন। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে চিঠির উত্তর পাওয়া যাবে।

ভারত বায়োটেকের টিকা বাংলাদেশে উৎপাদনের ক্ষেত্রেও জোরালো তৎপরতা চলছে। ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে বলেও সূত্র জানায়। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্র মতে, এমনও হতে পারে, একই সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ভারত, রাশিয়া ও চীনের টিকা বাংলাদেশে উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। সে লক্ষ্যে সতর্কতার সঙ্গে এবং অনেকটা গোপনীয়তা রক্ষা করে কাজ চলছে। যদিও রাশিয়ার টিকা দেশে উৎপাদনের একধাপ অনুমোদন আগেই দেওয়া হয়েছে। বাকি চুক্তিকেন্দ্রিক বিষয়গুলো আটকে আছে দেন-দরবারের মধ্যে।

দেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত অক্সফোর্ডের টিকা অনেক জেলায়ই শেষ হয়ে গেছে। তবে যেসব জেলায় এখনো আছে, সেসব জেলায় শেষ না হওয়া পর্যন্ত টিকার দ্বিতীয় ডোজ চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) ডা. শাসমুল হক।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) ডা. মিজানুর রহমান জানান, গতকাল (সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত) দেশে অক্সফোর্ডের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫৬ হাজার ৯৪০ জন। এ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার ২৩ জন। আর প্রথম ডোজ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯১২। মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ৯৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৫ ডোজ। হাতে এখন টিকা রয়েছে ছয় লাখ ২৩ হাজার ৬৫ ডোজ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, হাতে থাকা সব টিকা দেওয়া শেষ হওয়ার পরও আরো ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৪ ডোজ টিকা ঘাটতি থেকে যাবে দ্বিতীয় ডোজের জন্য।



সাতদিনের সেরা