kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

সিনোভ্যাকের টিকা দেশেই উৎপাদনে সায় সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিনোভ্যাকের টিকা দেশেই উৎপাদনে সায় সরকারের

বহু নাটকীয় পরিস্থিতির পর চীনের সিনোভ্যাক কম্পানির করোনার টিকা বাংলাদেশেই উৎপাদন করতে যাচ্ছে দেশীয় বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইনসেপ্টার সঙ্গে সিনোভ্যাকের দাপ্তরিক প্রক্রিয়াও অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে এসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কারিগরি কমিটি ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পজিটিভ সাড়া পাওয়া গেছে। ইনসেপ্টা সিনোভ্যাকের টিকা দেশে উৎপাদন করবে। তাদের প্লান্ট প্রস্তুত। কাঁচামালও শিগগিরই এসে পড়বে বাকি কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই।

এর আগে চীনের সিনোভ্যাক কম্পানির সঙ্গে দেশেই তাদের টিকার ট্রায়ালের বিষয়ে গত বছর চুক্তি হয় আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ—আইসিডিডিআরবির সঙ্গে। সরকারও তাতে অনুমতি দেয়। যার ভিত্তিতে ঢাকার সাতটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে ওই টিকা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ওই টিকা দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টায় উৎপাদনের বিষয়েও অগ্রগতি হয়। তবে হঠাৎ করেই সব আটকে যায়। ট্রায়ালের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু টিকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েও থেমে যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-২, একই হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, ঢাকা মহানগর হাসপাতাল ও হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে প্রস্তুতও করা হয়েছিল ট্রায়ালের জন্য। তাও ভেস্তে যায়।

আইসিডিডিআরবি সূত্র জানায়, তাদের সঙ্গে ট্রায়ালের চুক্তি অনুসারে দুই হাজার ১০০ জনকে আসল ভ্যাকসিন প্রয়োগ এবং আরো দুই হাজার ১০০ জনকে প্লাসিবো দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই চীন পিছটান দেয়। তারা এখানে তাদের খরচে ট্রায়ালের জন্য চুক্তি করেও হঠাৎ করেই উল্টো বাংলাদেশের কাছে খরচ দাবি করে বসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাইট্যাকের একাধিক সদস্য কালের কণ্ঠকে জানান, সিনোভ্যাক থেকে প্রথমে গত বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল। কিন্তু তখন সরকার চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিতে অনেকটা দেরি করে। এক পর্যায়ে চীনা পক্ষই পিছুটান দিলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রক্রিয়া। তবে এখন আবার অন্ততপক্ষে দেশে এই টিকার উৎপাদনে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ নতুন আশা জাগিয়েছে।

এদিকে দেশে চলমান অক্সফোড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ যেখানে যেখানে থাকবে সেখানে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) ডা. শামসুল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে একযোগে কোনো বন্ধের ঘোষণা দেব না।