kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

কালের কণ্ঠে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের বিশেষ লেখা

আল আকসা জেরুজালেম কখনো ছেড়ে দেব না

ইউসেফ রামাদান

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আল আকসা জেরুজালেম কখনো ছেড়ে  দেব না

ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে তা ভয়ংকর নৃশংসতা, মানবতাবিরোধী অপরাধ। এগুলো হচ্ছে একুশ শতকে একটি শান্তিকামী জাতির বিরুদ্ধে, যারা ৭৩ বছর ধরে দখলদারির শিকার হচ্ছে। এটি ‘এথনিক ক্লিনজিং’ (জাতিগত নির্মূল)। এটি থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। এরই মধ্যে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আমাদের জনগণের ওপর হামলা চালানোর দায়ে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। আমাদের জনগণের ওপর নৃশংসতা বন্ধ করতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো চাপ সৃষ্টি করা উচিত।

আমি বিশ্বাস করি, দখলদার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ফিলিস্তিনের জনগণের বা অন্য কারো অনুভূতির কোনো মূল্য নেই। পবিত্র রাত লাইলাতুল কদরে তারা পবিত্র মসজিদুল আকসায় নামাজরত ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট যে আমাদের পবিত্র এ মাসের ব্যাপারেও তাদের কোনো অনুভূতি নেই। মানবতার প্রতি তাদের কোনো দায় নেই। এ থেকে এটাও স্পষ্ট যে মুসলিম উম্মাহকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই এগুলো রুখে দাঁড়াতে হবে। ফিলিস্তিন ও তার জনগণ মুসলিম উম্মাহর পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। জেরুজালেম শুধু ফিলিস্তিনের নয়, সারা বিশ্বের মুসলমানের। এই সেই আল-আকসা মসজিদ যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর আরশ থেকে অবতরণ করেছিলেন। সেই স্থান অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। ওই স্থান রক্ষা করা বিশ্বের প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

ইসরায়েল কেন এটি করছে তা আমরা বুঝতে পারি। অপরাধী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইসরায়েলে সরকার গঠনে সমস্যার মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের জনগণের কাছে ‘নায়ক’ হওয়ার জন্য তিনি আমাদের জনগণের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তিনি প্রমাণ করতে চান যে ফিলিস্তিনের জনগণকে পদাবনত করার, সংগ্রাম থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে। তিনি তাঁর জনগণকে দেখাতে চান যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিনি সক্ষম। কিন্তু সে ভাবনা ভুল। ফিলিস্তিনের জনগণ কখনো তাদের ভূমি ছেড়ে দেবে না। আমরা কখনো আল-আকসা, জেরুজালেম ছেড়ে দেব না।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাতে গোনা কয়েকটি টিভি চ্যানেল ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি প্রচার করছে। সেগুলোর মধ্যে আলজাজিরা, লেবাননের আল-মায়াদিন উল্লেখযোগ্য। তারা দেখাচ্ছে কী ধরনের নৃশংসতা হচ্ছে। ইসরায়েল টিভি অফিসে হামলা চালিয়ে এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে তাদের নৃশংসতার খবর বিশ্বকে দেখানো যাবে না। এই হামলা কেবল আলজাজিরার ওপর নয়, সব গণমাধ্যমের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভূমিকা দুর্ভাগ্যজনক। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের প্রশাসনের মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। যখন বাইডেন ক্ষমতায় এসেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদায় নিয়েছিলেন আমরা খুশি হয়েছিলাম। বাইডেনকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, তিনি আমাদের জনগণকে হত্যা করতে ইসরায়েলকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। কিন্তু এটি কী ধরনের আত্মরক্ষা? এটি আগ্রাসনকে সমর্থন করা। বাইডেনের কাছে আমার প্রশ্ন, কিভাবে আপনি দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার বদলে ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মরক্ষার সংগ্রামের নিন্দা জানান? এটি দ্বিচারিতা ও অগ্রহণযোগ্য।

হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামের বড় শক্তি। বিশ্বের যেখানেই দখলদারিত্ব হয়েছে তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও তার স্বাধীনতার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সমস্যা হামাস সৃষ্টি করেনি। সমস্যার মূলে দখলদারি। হামাস হলো ‘রিঅ্যাকশন’। আমাদের উচিত, ‘অ্যাকশন’ নিয়ে কাজ করা। আর ওই ‘অ্যাকশন’ এসেছে ইসরায়েলিদের কাছ থেকে। নিজের, জনগণের ও ভূমির জন্য কাজ করার অধিকার অবশ্যই হামাসের আছে।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের, বাংলাদেশি ভাই-বোনদের অবস্থানের আমরা ভূয়সী প্রশংসা করি। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাবে। ফিলিস্তিনের জন্য বাংলাদেশিদের অনেকে দূতাবাসে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন, কেউ ওষুধ দিচ্ছেন। এমনটি বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়।

ইউসেফ রামাদান : বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত

 



সাতদিনের সেরা