kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

‘আগ বাড়িয়ে’ বলছেন চীনা রাষ্ট্রদূত

♦ কোয়াড বিতর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
♦ আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমরাই নির্ধারণ করব
♦ কোনো সামরিক জোটেই যাচ্ছে না বাংলাদেশ
♦ চীনের কাছ থেকে আমরা এ ব্যবহার আশা করিনি, এটা দুঃখজনক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আগ বাড়িয়ে’ বলছেন চীনা রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ‘আগ বাড়িয়ে’ কোয়াড নিয়ে কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, চীনের কাছ থেকে এ ধরনের ব্যবহার বাংলাদেশ আশা করেনি। বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশ নিজেই তার পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করছে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কোনো দেশের নেতৃত্বেই সামরিক জোটে যোগ দেবে না।

এর আগে গত সোমবার ঢাকায় কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়াড্রিলেটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগে (কোয়াড)’ বাংলাদেশ যোগ দিলে চীনের সঙ্গে এ দেশের সম্পর্ক ‘যথেষ্ট খারাপ’ হবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ওই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে উপহার হিসেবে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা পাঠানোর দুই দিন আগে। তাঁর ওই বক্তব্য শুধু বাংলাদেশ সরকারকেই নয়, বিদেশি কূটনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহলকেও বিস্মিত করেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা জোট কোয়াড বাংলাদেশকে জোটে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব দেয়নি। বাংলাদেশও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।

কোয়াড হলো চার দেশের একটি কৌশলগত জোট। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোটে রয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ চীন এই জোটে নেই। তাই বিশ্লেষকরা একে চীনবিরোধী জোট বলেই মনে করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূতের ওই বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমরা নির্ধারণ করি। যেকোনো দেশ তার বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। দেশের মঙ্গলের জন্য আমরা কী কাজ করব না করব, আমাদের মৌলিক অবস্থানের ভিত্তিতে আমরা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “চীনের রাষ্ট্রদূত তাঁর দেশের অবস্থানের কথা বলেছেন। যে প্রতিষ্ঠানের (কোয়াড) কথা উনি বলছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের কেউই এখনো আমাদের ‘অ্যাপ্রোচ’ করেনি। এটি একটু আগ বাড়িয়ে বলাবলি হয়েছে। তবে এটা নিয়ে বিশেষ বক্তব্য নেই।”

মন্ত্রী বলেন, “এমনিতে চীন কখনো অন্যের বিষয়ে নাক গলায় না। আর এ রকম ‘অ্যাগ্রেসিভ’ কখনো কাউকে বলতে শুনিনি। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা কী করব, না করব সেটা আরেকজন বড় করে বলছেন। দেশের মঙ্গলের জন্য যেটা প্রয়োজন, সেটাই আমরা করব।’ তিনি বলেন, ‘চীনের কাছ থেকে আমরা এ ব্যবহার আশা করিনি।’

‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বক্তব্যের জন্য চীনের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ কোনো বার্তা দেবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কী করি না করি, সেটা সব সময় মিডিয়াকে বলি না। ‘উই হ্যাভ ডিফারেন্ট ওয়ে অব ডুয়িং থিংস’। আমরা জানি, আমরা কী করব। সব কিছু বলে দিলে তো মহা মুশকিল।”

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চীনের রাষ্ট্রদূতের নজিরবিহীন ওই বক্তব্য তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কোয়াডের সদস্যরাও চীনের এমন ‘হুমকি’র দিকে নিঃসন্দেহে দৃষ্টি রাখবে।

টিকা নিয়ে বক্তব্যের পাল্টা জবাব

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গত সোমবার চীনা টিকা পাঠাতে দেরির জন্য বাংলাদেশে অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগার কথা বলেন। গতকাল এ বিষয়ে জবাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, চীন তার টিকা বাংলাদেশে ট্রায়াল (পরীক্ষা) করার জন্য বাংলাদেশকেই টাকা দিতে বলেছিল। এটি বিশ্বে বিরল। তবে বাংলাদেশ আগেই চীনকে বলে রেখেছিল যে তাদের কাছ থেকে টিকা কিনবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ চার থেকে পাঁচ কোটি ডোজ কভিড টিকা কিনতে চায়।

উল্লেখ্য, চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের তৈরি টিকার পাঁচ লাখ ডোজ আজ বুধবার ঢাকায় পৌঁছবে। এই টিকা চীন বাংলাদেশকে ঈদের উপহার হিসেবে দিচ্ছে। তবে এই টিকা আনতে বাংলাদেশকে ফ্লাইট পাঠাতে হয়েছে।

বাংলাদেশ গত বছরের শুরুর দিকে চীনে কভিড সংক্রমণের সময় জরুরি সহায়তা পাঠিয়েছিল। গত সপ্তাহে ভারতকে রেমডেসিভির ইনজেকশনসহ সহায়তা পাঠিয়েছে। গতকাল নেপালকেও কভিড মোকাবেলায় সহায়তা পাঠিয়েছে চীন।