kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

ব্যাংকে আজও করা যাবে লেনদেন

ঈদের ছুটি শুরু কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্যাংকে আজও করা যাবে লেনদেন

ঈদের আগে আর এক দিন ব্যাংক খোলা থাকবে। অর্থাৎ আজ বুধবার শেষ কার্যদিবস। এ সময়ের মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-বোনাস দিতে হবে। পাশাপাশি বাড়তি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে সাধারণ গ্রাহকরাও নগদ টাকা তুলে রাখছে। এতে ঈদের আগে ব্যাংকে প্রচণ্ড ভিড় এবং টাকা তোলার চাপ বেড়েছে।

অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহকদের সেবা দিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ সময়ে ঈদের আগে যেমন ব্যাংকে ভিড় হয়, এবার করোনার কারণে লকডাউনের মধ্যেও অনেকটা সে রকম ভিড়ই দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা। আজ শেষ ব্যাংকিং কার্যদিবসেও গ্রাহকদের অতিরিক্ত ভিড় থাকবে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।

এ ছাড়া ঈদের আগে এটিএম বুথে গ্রাহকদের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বি?ভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যাংকে নগদ টাকা তোলার চাপ বাড়ায় আন্ত ব্যাংক কলমানি বাজারে লেনদেনও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান বিধি-নিষেধ ৬ মে থেকে ১৬ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় ব্যাংকও সীমিত পরিসরে খোলা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্যাংকের লেনদেন হচ্ছে। লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকছে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।

সরেজমিনে মতিঝিল ও দিলকুশার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার আগেই ব্যাংকের বাইরে গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে এই ভিড় আরো বাড়তে থাকে। টাকা তোলার কাউন্টারেই বেশি ভিড় লক্ষ করা যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন চালানপত্র, ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন সেবার বিল জমা দেওয়ার লাইনও লক্ষ করা গেছে। বেশির ভাগ ব্যাংকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহককে ব্যাংকের ভেতরে ঢোকানো হয়েছে। গ্রাহকের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা করা হয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে মাপা হয় শরীরের তাপমাত্রা। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বেশ সতর্ক থাকতে দেখা যায়। মুখে মাস্ক এবং কেউ কেউ হাতে গ্লাভস পরে অফিস করছেন।

মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদের আগে সব সময় ব্যাংকে গ্রাহকের ভিড় বাড়ে। এবার লকডাউনের মধ্যেও সেই চিত্র পাল্টায়নি। টাকা জমা দেওয়ার চেয়ে তোলার চাপ বেশি ছিল। তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আমাদের নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত প্রায় এক ঘণ্টা বেশি লেনদেন করতে হয়েছে।’ আজ শেষ ব্যাংকিং কার্যদিবসেও গ্রাহকের ভিড় বেশি থাকবে বলে জানান তিনি।

সকাল ১১টার দিকে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে টাকা তুলতে আসেন গ্রাহক সুরাইয়া আক্তার। আধাঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি টাকা তুলতে সক্ষম হন। জানতে চাইলে সুরাইয়া আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে এসেছিলাম। ভিড়ের কারণে টাকা তুলতে একটু বেশি সময় লেগেছে।’ ঈদের কারণেই এই ভিড় বলে জানান তিনি।

ঈদের ছুটি কাল থেকে: এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রতিবছর সাধারণ, নির্বাহী আদেশসহ ধর্মীয় ও ঐচ্ছিক ছুটিগুলো নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত করা হয়। এবারও গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩, ১৪ ও ১৫ মে। আর ১৬ মে মুসলিম সরকারি কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি কাটাতে পারবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৩ বা ১৪ মে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। অর্থাৎ রোজা ২৯ দিনে হলে ঈদের পরের দুই দিন ছুটি। যদিও ওই দুই দিনই শুক্র ও শনিবার। আর রোজা ৩০ দিনে হলে ঈদের আগে এবং পরে মিলিয়ে তিন দিনের ছুটি। অর্থাৎ ঈদ যেদিনই হোক মোট ছুটি তিন দিন। যদিও চলমান লকডাউনের সময়সীমা ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রায় সব ধরনের সরকারি অফিস বন্ধই থাকছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের উপসচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের ছুটি ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত। এটা অনেক আগেই ঘোষিত। এখানে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কিছু নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোজা ২৯ দিনে শেষ হলেও ছুটির কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ বুধবার অফিস শেষে বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে।

শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও যাতে তিন দিনের বেশি ছুটি না দেয়, সে বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ঈদুল ফিতর ঘিরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মীদের সরকারি তিন দিনের অতিরিক্ত ছুটি না দিতে বলেছে। ওই দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঈদে তিন দিনের বেশি ছুটি দেওয়া হবে না। পোশাক কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও তিন দিনের বেশি ছুটি দিতে পারবে না। তিনি আরো জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যদিও কয়েক দিন ধরে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বাড়তি ছুটির জন্য আন্দোলন করছেন। কিছু প্রতিষ্ঠান বাড়তি ছুটি মঞ্জুর করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো নির্দেশনা মঙ্গলবার পর্যন্ত আসেনি।