kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

ছুটি বাড়ানোর দাবিতে টঙ্গীতে বিক্ষোভ

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২০

কালিয়াকৈরে বিক্ষোভ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি ও কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি    

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২০

ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে টঙ্গী ও কালিয়াকৈরে দুটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর করেছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া আরো ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল বাড়তি ছুটির দাবিতে টঙ্গীর মিল গেট এলাকার হামিম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড এবং কালিয়াকৈরে স্টারলিং ডিজাইনিং লিমিটেড কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভের এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মিজানুর রহমান (২৪), হাসান মিয়া (২৬), রুবেল মিয়া (২২), জাহিদ হোসেন (২৫), রনি (২৪), মামুন (২৬), সোহেল (২২), রুবেল হোসেন (২৪), ইমরান হোসেন (২৪), রাজীবুল ইসলাম (২৬), মামুন মিয়া (২৭), রবি (২১), লতিফ (১৯), রনি (২২), এহসানুল হক (৩৫), রাজিবুল (২৬), কলি বেগম (২৪), নিজাম উদ্দিন (৩০), সমলা (২৫), ইয়াসিন (২০), হাসিনা (৪০), সাব্বির (২২), সাবিনা (২৫) ও রিনা বেগম (২০)। গুরুতর আহত ১৩ জন শ্রমিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

টঙ্গীতে মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি তুলতে গেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নগর বিশেষ গোয়েন্দা শাখার (সিটি এসবি) এসআই কামাল পাশা ও এএসআই রুবেল হাওলাদারকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল সকালে কারখানায় কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ১০ দিন ছুটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হন শ্রমিকরা। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ১০ দিনের ছুটির দাবিতে বিক্ষোভ করে কারখানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। পরে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মিল গেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করেন। পুলিশ  মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হন।

শ্রমিকরা জানান, এবার ঈদে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল ১০ দিন, কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ সাত দিন ছুটি ঘোষণা করে। এ নিয়ে কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ছুটির দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ গুলি চালায়।

ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আন্দোলনটি অযৌক্তিক। আমরা প্রতিবছরের মতো এবারও সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছি। শ্রমিকরা ১০ দিনের ছুটির দাবিতে অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে। গতকাল সোমবার থেকে আগামী মঙ্গলবার (১৮ মে) পর্যন্ত কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) আব্দুল জলিল বলেন, ১০ দিন ছুটির দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করে ভাঙচুর চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা করা হয় এবং ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

এদিকে ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কারখানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় তাঁরা সাংবাদিকদের ব্যাগসহ ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেন। পরে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশি বাধা দিয়ে তা পণ্ড করে দেয়।

এবার ঈদে শিল্প-কারখানায় তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার, কিন্তু কালিয়াকৈর উপজেলার হরিণহাটি এলাকার পোশাক কারখানা স্টারলিং ডিজাইনিং লিমিটেডের শ্রমিকরা ১২ দিনের ছুটি দাবি করে আসছেন। কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিতে সাড়া না দিয়ে ছুটির বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে অটল থাকে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে। এতে ক্ষুব্ধ হন শ্রমিকরা। গতকাল শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে ওই কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে শ্রমিকরা তাঁদের ব্যাগসহ ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।

গাজীপুর-২ শিল্প পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।