kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

থামছে না গ্রামমুখী মানুষের জোয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



থামছে না গ্রামমুখী মানুষের জোয়ার

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। তবে বন্ধ দূরপাল্লার বাস, বাজছে না ট্রেনের হুইসেল, লঞ্চও ছাড়তে মানা। তবু যেতে হবে বাড়ি। করোনাভীতির মধ্যেও এবারের ঈদ যাত্রা নিয়ে রীতিমতো চলছে তুঘলকি কারবার। কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেও কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না গ্রামমুখী মানুষের জোয়ার। গেল কয়েক দিনের মতো গতকাল সোমবারও মানুষের স্রোত ছিল ঘরমুখী।

মানবস্রোত ঠেকাতে সড়কে সড়কে আছে ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও পুলিশ। আছে একাধিক তল্লাশি চৌকি। এর পরও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা উপায়ে মানুষ ঠিকই চলে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে।

এদিকে যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির পর গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত আনসার। যাত্রীর চাপের মুখে গতকাল শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে কিছুক্ষণ পরপরই ফেরি ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

গেল কয়েক দিন শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফেরি না চললেও গতকাল বিকেলের পর ফেরি চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়েছে। এতে উভয় ঘাটে আটকে পড়া প্রাইভেট কার, কাঁচামাল ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার হচ্ছে। বিআইডাব্লিউটিসি বাংলাবাজারের সহকারী ব্যবস্থাপক ভজন কুমার সাহা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেল থেকে এই নৌপথের সব ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।

করোনা আতঙ্কের চেয়ে যাত্রীদের কাছে বাড়ি ফেরার উদ্বিগ্নতা বড় হয়ে উঠেছে। কাউকেই সামাজিক দূরত্ব কিংবা সরকারি বিধি-নিষেধ মানতে দেখা যাচ্ছে না। ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসে করে যে যেভাবে পারছে ছুটছে নাড়ির টানে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে অনেক দূরপাল্লার বাসও রাতের আঁধারে চলছে নানা গন্তব্যে।

গাবতলী-আমিনবাজার : সড়কে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার কারণে গতকাল আমিনবাজার থেকে ভাড়ায় যাত্রীবাহী প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা কম দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়িগুলো চেকপোস্ট পার হয়েছে নানা ছুতায়। আমিনবাজারে আগের দিন রবিবার যাত্রীদের প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে পাটুরিয়া যেতে দেখা গেলেও গতকাল অনেকেই পাটুরিয়া গেছে বাস বদল করে। মেহেরপুরের বাসিন্দা সামিউল আলম আমিনবাজার থেকে একটি ভাড়া করা প্রাইভেট কারে যাত্রা করার পরই ম্যাজিস্ট্রেট গাড়ি আটকে দেন। জরিমানা না করে গাড়ি ঘুরিয়ে দেন। গাড়ি ছেড়ে সামিউলকে দেখা যায় পরিবার নিয়ে বাসে উঠতে। তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট কার হলে একটু আগে যেতে পারতাম, এখন একটু বেশি কষ্ট হবে।’

ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঝিনাইদহে যাত্রা করেন নাফিজুল হাসান, আমিনবাজার ব্রিজের ওপর থেকে তাঁর গাড়িতে ওঠেন সাভারের এক পরিচিত রাজনৈতিক নেতা, চেকপোস্টে আটকানো হলে কর্তব্যরত এক পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ‘স্যার, উনার বাড়ি সাভারে।’ এভাবেই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহার করে চেকপোস্ট পার হচ্ছে অনেকেই। এ ব্যাপারে নাফিজুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে গতকাল থেকে আমিনবাজার থেকে মানিকগঞ্জের সীমানা পর্যন্ত বাসের ভাড়া আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে, রবিবার যে ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, গতকাল থেকে সেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা করে। মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন আগের মতোই চলছে। গতকাল পাটুরিয়া পর্যন্ত দুজনের মোটরসাইকেলের ভাড়া এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিতে দেখা গেছে। তবে শর্ত হচ্ছে, তল্লাশি চৌকির আগে দুজনকে নেমে হেঁটে যেতে হবে, পরে আবার উঠতে হবে।

আব্দুল্লাহপুর : ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়ার যাত্রীরা আব্দুল্লাহপুর থেকে মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো ভাড়া নেই। ভাড়া কম, তাই নিম্ন আয়ের মানুষ যাচ্ছে ট্রাকে। টঙ্গী ব্রিজের আগে যাত্রীবাহী একটি ট্রাক দাঁড় করায় পুলিশ। কিছু সময় আটকে রেখে আবার মানবিক বিবেচনায় ছেড়ে দেয়। ট্রাকের সবাই ময়মনসিংহের ভালুকার যাত্রী। ট্রাকের যাত্রী রহিমা বেগম ছেলে-মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গুলশানের যে বাসায় কাজ করি, ওই স্যারেরা আমেরিকা গেছেন, এখন থাকার জায়গা নেই, তাই গ্রামে যাচ্ছি। ভালুকা পর্যন্ত তিনজনের কাছ থেকে ভাড়া নিছে ৪৫০ টাকা।’

যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ : শত শত নারী-পুরুষ বাড়ি যেতে সায়েদাবাদ টার্মিনালে আসছে। এসেই দেখছে সব এলাকার বাস বন্ধ। শামসুদ্দিন আহমেদ গতকাল সোমবার সকালে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ফেনী যাওয়ার জন্য পুরান ঢাকার বংশাল থেকে সায়েদাবাদ এসেছিলেন। বাস বন্ধ দেখে হতাশ হয়ে ফুটপাতে বসে ছিলেন। তিনি জানান, গত বছর ঈদে বাড়ি যেতে পারেননি। এ বছর যেভাবেই হোক গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন। এখন যাত্রাবাড়ীর দিকে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সেখান থেকে বাসে চড়ে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত যাবেন। এরপর অন্য গাড়িতে করে ফেনী যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

দুপুরে সায়েদাবাদ টার্মিনালে দেখা যায়, বেশ কিছু বাসচালক ও হেল্পার অলস বসে আছেন। বাস হেল্পার আলী হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্যাখেন, কী পরিমাণ যাত্রী কষ্ট কইরা বাড়ি যাইতাছে। আমরা কত টাকা ভাড়া পাইতাম। দ্যাশে সব চলতাছে, খালি আমগো ইনকাম বন্ধ। সরকার আমাগো আর যাত্রীগো কষ্ট দিতাছে।’

দুপুর ২টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে দাঁড়িয়ে দেখা যায় শত শত মানুষ যাত্রাবাড়ীর ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। সবার সঙ্গে বড় বড় ব্যাগ। বাস না পেয়ে অনেকে হেঁটে শনির আখড়ার দিকে যাচ্ছিল। যাত্রাবাড়ী মোড়ে সাদ্দাম নামের এক তরুণ জানান, তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। কাজের খোঁজে ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকার মানিকনগরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছিলেন, কিন্তু কোনো কাজ জোটাতে না পেরে বাড়ি চলে যেতে হচ্ছে তাঁকে। বাস না পেয়ে ভাড়ার মোটরসাইকেলে বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মোটরসাইকেলচালক ভাড়া চান সাড়ে তিন হাজার টাকা। এ কারণে তিনি হেঁটেই রওনা হচ্ছেন। যদি পথে কোনো বাস পাওয়া যায় তাহলে কষ্ট কিছুটা কমবে।

পোস্তগোলা ব্রিজে দেখা যায়, ব্যাগ হাতে ও মাথায় নিয়ে শত শত নারী ও পুরুষ ছুটছে মাওয়ার রাস্তায়। বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীদের সিএনজিচালিত অটোরিকশার দিকে দৌড়াতে দেখা যায়। প্রতিটি অটোরিকশা কুচিয়ামারা ব্রিজ পর্যন্ত ১০০ টাকা করে ভাড়ায় যাত্রী তুলছে। জানা যায়, সেখান থেকেও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যাত্রীরা মাওয়া ঘাট পর্যন্ত যেতে পারছে। মাওয়া থেকে বিভিন্ন স্পিডবোট দিয়ে লোকজন পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে।

সদরঘাট : লঞ্চ বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে মানুষ। ঈদে বাড়ি ফেরার এই যুদ্ধে গন্তব্যে যেতে পারলেই যেন নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছে অনেকেই। এ জন্য বাড়তি ভাড়াও আমলে নিচ্ছে না ঘরমুখো যাত্রীরা। ভোলায় যাবেন বলে গাজীপুর থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আসেন একটি গার্মেন্টের কর্মী সোহেল রানা। সকাল ৮টার দিকে ঘাটে পৌঁছালেও যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে তিনি হতাশ হয়ে বসে ছিলেন। সোহেল বলেন, ‘মা অসুস্থ, আর করোনার কারণে গত বছরও গাজীপুরে ঈদ করেছি। এবার যাওয়ার চেষ্টা করছি। দেখি কী হয়।’ অনেকেই এমন অপেক্ষা করলেও কেউ কেউ ভেঙে ভেঙে ট্রলারে করে পোস্তগোলা নারায়ণগঞ্জ হয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছেন। যারা আটকে আছে, তারাও কোনো না কোনোভাবে যেতে পারবে বলে আশায় আছে। শেষ পর্যন্ত ঈদের আগের দিন লঞ্চ ছাড়তে পারে—এমন ভাবনায়ও আছে অনেকে।

শিমুলিয়া ঘাট : মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাট গতকাল ছিল কখনো যাত্রীতে গাদাগাদি আবার কখনো যাত্রীশূন্য। তবে ঘরমুখো মানুষের চাপ গতকাল অনেকটাই কমেছে। গতকাল দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রায় এক হাজার যাত্রী, দুটি অ্যাম্বুল্যান্স এবং ৮-১০টি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ২ নম্বর ঘাট থেকে ছেড়ে যায় ফেরি শাহপরান। এরপর যাত্রীশূন্য হয়ে যায় ঘাট এলাকা। তবে শিমুলিয়া ঘাটে এখনো পারাপারের অপেক্ষায় আছে পাঁচ শতাধিক যানবাহন। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ৪ নম্বর ঘাট থেকে তিন হাজার যাত্রী ও অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে ছেড়ে গেছে যমুনা আইটি-৩৯৫ নামের একটি ফেরি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছেড়ে যায় ফেরি এনায়েতপুরী।

শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডাব্লিউটিসির মেরিন অফিসার আহম্মেদ আলী বলেন, সকালে ঘাটে কয়েকটি লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্স এসে জড়ো হয়। অ্যাম্বুল্যান্সগুলো পার করতে যুমনা আইটি-৩৯৫ ফেরিটি ঘাটে ভেড়ানো হয়। সে সময় ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফেরিতে গাদাগাদি করে ওঠে যাত্রীরা। ফেরিতে শুধু জরুরি পরিষেবার গাড়ি পার করা হচ্ছে।

পাটুরিয়া ঘাট : গতকাল জরুরি রোগী ও লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্স পারাপারের জন্য ছোট দুটি ফেরি চলাচল করছে। এসব জরুরি পরিষেবার যানবাহন পারাপারের প্রস্তুতির সময় যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে ফেরিতে উঠে পড়ে। এদিকে যাত্রীঢল ঠেকাতে বিজিবি মোতায়েন করা হলেও ঘাট এলাকায় তাদের তৎপরতা দেখা যায়নি।

বিআইডাব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে জরুরি লাশবাহী ও রোগী পারাপারের জন্য ছোট দুটি ফেরি সচল রাখা হয়েছে। এসব ফেরিতে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে উঠছে। যাত্রীদের সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। 

বঙ্গবন্ধু সেতুতে গাড়ির চাপ : বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে হাজার হাজার মানুষ ছুটছে উত্তরাঞ্চলের পথে। তবে গেল কয়েক দিন বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরাঞ্চলের পথে দূরপাল্লার বাস চলাচল করলেও গতকাল তা দেখা যায়নি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও যানজট চোখে পড়েনি।

গত বছর ঈদুল আজহার আগে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ২৪৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বছর দূরপাল্লার বাস চলাচল না করলেও ঈদের তিন দিন আগেই যানবাহন চলাচলের সংখ্যা গত বছরের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩১ হাজার ৮০২টি যানবাহন চলাচল করেছে। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে ৩১ হাজার ৮০২টি যানবাহন চলাচল করেছে। তবে গতকাল সোমবার বিকেল থেকে এসব যানবাহনের চাপ আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : কঠোর বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে সীতাকুণ্ড অংশে যাত্রী পরিবহন করায় পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছে ২০টি যাত্রীবাহী বাস এবং ১০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এ ছাড়া মামলা দেওয়া হয়েছে ৪০টি যানবাহনকে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনে মাইক্রোবাস এবং রাতে দূরপাল্লার যানবাহনে বাড়ি যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াত ততই বাড়ছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা।]