kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী

৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া বহাল রাখা কতটা যৌক্তিক?

গণপরিবহন জেলায় চলবে

সজিব ঘোষ   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া বহাল রাখা কতটা যৌক্তিক?

করোনার দোহাই দিয়ে এক বছর ধরে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে বাসের অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহনের শর্ত দেওয়া হলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি। যাত্রীবোঝাই বাসেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বাসের এই অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ যেহেতু করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল, ফলে কবে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে তা বলতে পারছেন না কেউ।

স্বাভাবিকভাবে বড় বাসে ৫৫ থেকে ৬০ আসন, মাঝারি বাসে ৪০ থেকে ৪৫ আসন আর ছোট বাসে ৩০ থেকে ৩৫টি আসন থাকে। নিয়ম অনুযায়ী বড় বাসে ৪১টি আসন আর মাঝারি বাসে ৩৯টি আসন থাকার কথা। এসব দিক বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, রাজধানীতে চলাচল করা বাসগুলোয় অন্তত ১০ শতাংশ বেশি আসন থাকে। আবার অনেক বাসে চালকের পাশে ইঞ্জিনের ওপর চার-পাঁচটি অস্থায়ী আসনও পাতা হয়। ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করলে যাতে মালিকের লাভ হয় সে হিসাব ধরেই নির্ধারণ করা হয় বাসের ভাড়া। বাকি ২০ শতাংশ আসন এ হিসাবের বাইরে। আবার প্রজ্ঞাপনে করোনাকালীন অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাসগুলোকে অন্তত ৭০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত এই ৩৫ শতাংশ যাত্রীর কাছ থেকেও ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া এক টাকা ৭০ পয়সা হলেও ভাড়া নেওয়া হয় দুই টাকা ৫০ পয়সা।  করোনাকালীন যে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে তা দুই টাকা ৫০ পয়সার ওপর।  এটা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আন্তজেলায় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার বাস জেলার অভ্যন্তরে চলাচল করতে পারবে।’ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই শর্তের ওপর ভিত্তি করে গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশনা জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও গতকাল বুধবার রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে বিআরটিএর সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, নির্দেশনা জারির বিষয়ে কাজ চলছে। আশা করা যায় রাতের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করা হবে। নির্দেশনায় অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করা এবং ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়া আগের মতোই থাকবে।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একটি হিসাবে দেখেছি, আজিমপুর থেকে গাজীপুর রুটের একটি ৪০ আসনের বাস স্বাভাবিক সময় বিভিন্ন স্টেশনে ওঠা-নামা করে অন্তত ১৩০ জন যাত্রী পরিবহন করে। এতে সব ধরনের খরচ মিটিয়ে প্রতি ট্রিপে মালিকের লাভ থাকে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। করোনার সময় ওই লাভ কিছুটা কমলেও ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া না নিলে যাত্রীদের ওপর চাপ অনেকটা কমত।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার এই সময়ে সড়কে পুলিশের চাঁদাবাজির পরিমাণ আরো কয়েক গুণ বেড়েছে। মালিকরাও নিজেদের জায়গা থেকে ছাড় দিচ্ছেন না। ফলে সব বোঝা গিয়ে পড়ছে যাত্রী ভাড়ার ওপর।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে দুই দফা লকডাউনের পর গণপরিবহন চালু করা হলেও সিংহ ভাগ গণপরিবহন যাত্রীপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেনি। ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া পরিশোধ করেও অধিকাংশ গণপরিবহনে বাদুড়ঝোলা করে যাত্রী বহন করা হয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি গণপরিবহনে যত সিট তত যাত্রী বহন করেনি। তার পরও ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া আদায় করলেও সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘সব বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না তা আমাদের অল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন। আর বাসের ভাড়া বাড়ানো বা কমানো এটা একা আমার হাতে না। একটা কমিটি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসের মালিকরা তো ১০০ ভাগ ভাড়া বাড়াতে চেয়েছিলেন।’

 



সাতদিনের সেরা