kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

এডিসের বড় উৎসস্থল ইকবাল রোড লালমাটিয়া সায়েদাবাদ

শম্পা বিশ্বাস   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এডিসের বড় উৎসস্থল ইকবাল রোড লালমাটিয়া সায়েদাবাদ

এডিস মশার সবচেয়ে বড় উৎসস্থল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের লালমাটিয়া ও ইকবাল রোড এলাকা। এর পরেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সায়েদাবাদ ও উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকা। এ তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মৌসুমপূর্ব সার্ভেতে।

গত ২৯ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন ঢাকার দুই সিটির ৬৯টি ওয়ার্ডের ৭০টি স্থানে চালানো হয় এই জরিপ। এতে মোট ২০টি দল কাজ করেছে। জরিপে দেখা যায়, ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে বিআইয়ের (ব্রুটো ইনডেক্স) মান ২৩.৩ এবং ডিএসসিসির ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই মান ২০। এর পরেই মশার উত্সস্থল হিসেবে অবস্থান রয়েছে মনিপুর, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়া, নূরজাহান রোড, আসাদ এভিনিউ, শাহজাহান রোড, মগবাজার, মধুবাগ, নয়াটোলা, মীরবাগ, মালিবাগ, গুলবাগ, শান্তিবাগ, মিন্টো রোড, বেইলি রোড, কাকরাইল, সিদ্দিক বাজার, ওসমান গনি রোড, ঠাটারী বাজার, গোপী মোহন বসাক লেন, আরকে মিশন রোড, অভয় দাস লেন, মিল ব্যারাক ও আলমগঞ্জ রোডের।

এ বিষয়ে কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। মশক নিধন করতে পারলে এটা এ বছর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গত বছর এ নিয়ে আমরা অ্যাডভোকেসি মিটিং করেছিলাম। এ বছরও লকডাউনের পরে করব। একই সঙ্গে তখন আমরা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকার বাইরের অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতেও ট্রেনিং শুরু করব।’

এদিকে এক মাস পরেই শুরু হবে বর্ষাকাল। এই ঋতু এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত সময়। তাই মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান কীটতত্ত্ববিদদের। দুই সিটি করপোরেশন বলছে, তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে জনগণেরও কিছু দায়িত্বের জায়গা আছে বলে মনে করছে তারা।

২০১৯ সালে রাজধানীবাসীর কাছে ডেঙ্গু একটি আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওই বছর দেশে এক লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই ছিল রাজধানীতে। ওই বছর প্রায় ২০০ মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যায়। পরের বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই এডিস মশা নিধনে ব্যবস্থা নেয় দুই সিটি। ফলে গত বছর সরকারি হিসাবে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ছিল ৯।

এ বছর বর্ষা মৌসুমের আগে এডিস নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি কেমন—প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি বলেছে, তারা লার্ভিসাইডিং (মশার লার্ভা মারার প্রক্রিয়া) ও অ্যাডাল্টিসাইডিং (পূর্ণাঙ্গ মশা মারার প্রক্রিয়া) নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি গত বছর যেসব ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়া গিয়েছিল, সেসব ভবন মালিককে তালিকা ধরে সতর্কতামূলক খুদে বার্তা পাঠাচ্ছে। ওই সব ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিএনসিসি।

এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবন মালিকদের ঢাকা উত্তর সিটির পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেসব বড় জায়গায় বর্ষায় পানি জমে থাকবে, সেখানে আধা বা এক লিটার কেরোসিন ঢেলে দিতে। তাহলে সেখানে আর মশার লার্ভা জন্মাবে না।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসন্ন বর্ষা মাথায় রেখে আমরা আমাদের নিয়মিত মশক নিধন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। তবে নির্মাণাধীন ভবন আমাদের জন্য একটি বড় হুমকি। এসব জায়গায় বর্ষার পানি জমে লার্ভা জন্মে। এগুলো আমরা এরই মধ্যে চিহ্নিত করেছি। এই তালিকা ধরে আমরা সেখানে গিয়ে ম্যালেরিয়া ওয়েল-বি ওষুধ ছিটিয়ে দিচ্ছি। পাশাপাশি আমরা তাদের সতর্ক করছি যে পরেরবার থেকে যেন তারা নিজ দায়িত্বে এই ওষুধ ছিটায়।’ তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নগরবাসীর দায়িত্ব আছে। তারা তাদের দায়িত্বটা যদি সঠিকভাবে পালন করে, তাহলে আমরা এ বছরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব।’

ঢাকা দক্ষিণ জানিয়েছে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তারাও কোমর বেঁধে নেমেছে। মশক নিধনে ১ এপ্রিল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালনা করছে। কোথাও মশার লার্ভা হওয়ার মতো পরিবেশ দেখলে করা হচ্ছে জরিমানা। পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের প্রগ্রামও চলমান। এ ছাড়া ১ জুন থেকে মশার ওষুধের ধরনেও পরিবর্তন আনছে ঢাকা দক্ষিণ।

এসব বিষয়ে ডিএসসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মুস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়রের নিষেধ আছে।’ তবে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেয়র মহোদয় এমন কথা বলেননি। তিনি সব কর্মকর্তাকেই নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গা থেকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার দিয়েছেন।’

আসন্ন বর্ষায় এডিস নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার—এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে নগরবাসী ও সিটি করপোরেশন উভয়েরই দায়িত্ব আছে। নগরবাসীকে তাদের বাসাবাড়িতে সাত দিনের জমা পানির পাত্র পরিষ্কার রাখতে হবে। যে পাত্র ওল্টানো যায় না, সেখানে কীটনাশক বা লবণ ছিটিয়ে দিতে হবে। বাড়ির বাইরের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। রাস্তাঘাট, খেলার মাঠে যেসব পাত্রে পানি জমে, সেটা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাসস্ট্যান্ডে প্রচুর টায়ার থাকে, এগুলো ছিদ্র করে দিতে হবে।’ এখনই ব্যবস্থা নিলে এই মৌসুমে এডিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন এই গবেষক।



সাতদিনের সেরা