kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

‘লকডাউন’ বাড়ল ১৬ মে পর্যন্ত

দূরপাল্লা বন্ধ চলবে অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন

► ঈদে সরকারি চাকুরেদের বাড়তি ছুটি নয়
► কলকারখানার ছুটিও তিন দিন
► মার্কেটে মাস্ক না পরলে বন্ধের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দূরপাল্লা বন্ধ চলবে অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন

লকডাউনের আদলে চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দূরপাল্লার গণপরিবহন, ট্রেন ও লঞ্চ আগের মতোই বন্ধ থাকবে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সিটি করপোরেশনের ভেতর এবং জেলার মধ্যে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক জেলার গণপরিবহন অন্য জেলায় যেতে পারবে না অর্থাৎ আন্ত জেলা গণপরিবহন চলাচল বন্ধই থাকছে।

একই সঙ্গে শপিং মল, দোকানপাট সর্বত্র মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মার্কেটে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে না, সেসব মার্কেট বন্ধ করে দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার লকডাউন বাড়িয়ে কোনো আদেশ জারি করেনি সরকার। আজ মঙ্গলবার অথবা কাল বুধবার এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের এসব সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘প্রতিটি মার্কেট কঠোরভাবে মনিটরিং হবে। কোনো মার্কেটে মাস্ক ছাড়া লোকজন ঘোরাফেরা করলে মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। দোকান মালিক সমিতির নেতারা আমাদের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, আগামী ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন এভাবেই চলবে। ৬ মে বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন শুধু জেলার মধ্যে চলাচল করতে পারবে। তবে আন্ত জেলা বাস চলাচল করতে পারবে না। ঢাকার বাস ঢাকার মধ্যে চলাচল করবে। এছাড়া লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ থাকবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘গণপরিবহন মালিকরা আমাদের কথা দিয়েছেন, কোনোভাবেই গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। লঙ্ঘন করা হলে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই নির্দেশনাও দেওয়া আছে। সেটা আমরা দেখব।’

আগামী ১৪ মে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ঈদুল ফিতরের সময় শিল্প-কারখানায় সরকার নির্ধারিত তিন দিনের বেশি ছুটি দেওয়া যাবে না। সরকারি অফিসও এই তিন দিনই বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে সরকারি ছুটির দিন পড়লেও বাড়তি ছুটি দেওয়া হবে না।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার শর্তে বিধি-নিষেধের আদেশ দেয় সরকার। এরপর দুই দফা বিধি-নিষেধ তথা লকডাউনের সীমা বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়। এর মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল থেকে শপিং মল ও দোকানপাট খুলে দেওয়া হলেও বন্ধ ছিল গণপরিবহন। এবার জেলার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও আন্ত জেলা বাস, ট্রেন, লঞ্চ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হার কমেছে : চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিক অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার গত বছরের চেয়ে ১৬.১ শতাংশ কমেছে। গত বছর একই সময়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৪.৭৯ শতাংশ। এবার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৪৮.৭৮ শতাংশ। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, প্রথম ত্রৈমাসিকে মন্ত্রিসভার পাঁচটি বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৪১টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় ২০টি। ২১টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। করোনা মহামারির কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কমেছে বলে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকালের মন্ত্রিসভায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজ সম্পদ আইন, টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস (সংশোধন) আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

 



সাতদিনের সেরা