kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর

সমালোচকরা মানুষের পাশে নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সমালোচকরা মানুষের পাশে নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোবাইল ফোন সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৬ লাখ পরিবারের মধ্যে নগদ সহায়তা বিতরণের দ্বিতীয় পর্ব চালু করেছেন। তিনি গতকাল রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। চট্টগ্রাম, ভোলা ও জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিল।

প্রতিটি পরিবার এই মহামারিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঈদ উপহার হিসেবে দুই  হাজার ৫০০ টাকা পাচ্ছে, যার জন্য মোট ৯১২.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ সর্বদা দেশের জনগণের পাশে থাকে। সেটা ক্ষমতায় বা বিরোধী দল যে অবস্থানেই থাকুক না কেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় চিন্তা করি কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াব, মানুষকে সহযোগিতা করব। আওয়ামী লীগ তাঁর (জাতির পিতার) পদাঙ্ক অনুসরণ করেই কাজ করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও আমরা মানুষের পাশে আছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় কৃষকের ধান কাটার সমস্যা ছিল। আমি বলার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ মানুষের ধান কেটে দিয়েছে। এভাবে সব দুর্যোগ-দুর্বিপাকে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে থাকে।’

দুর্যোগে মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে শুধু সমালোচনার স্বার্থেই সরকারের ঢালাও সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে এদিনের ভাষণে তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা করোনাকালীন সরকারের কাজ নিয়ে সমালোচনা করছেন, সরকার এটা করেনি, সেটা করেনি, তাঁদের কাছে আমার প্রশ্ন—নিজে কয়টা লোককে সহায়তা করেছেন সেই হিসাবটা পত্রিকায় দিয়ে দেন। তাহলে মানুষ আস্থা পাবে, বিশ্বাস পাবে। সেটাই হচ্ছে বাস্তবতা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা প্রতিদিন বত্তৃদ্ধতা-বিবৃতি বা আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে যাচ্ছে, দুর্যোগে মানুষের পাশে কোথায় তারা? কয়জন দুর্গত মানুষের মুখে তারা খাবার তুলে দিয়েছে? কয়জন মানুষের পাশে তারা দাঁড়িয়েছে? কয়জন মানুষের কাফনের কাপড় তুলে দিয়েছে? কেউ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, এখন তাঁরা ঘরে বসে বসে বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছেন। আর আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবী আছেন, যখন তাঁদের বুদ্ধি খোলে কিংবা পরামর্শ দেন, তার আগেই কিন্তু আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে নেয়।’

সরকার বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শের জন্য বসে না থেকে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, এই দেশটা আমাদের। এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। রাজনীতি আমাদের জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। এই কথাটা আমরা ভুলি না।’

শক্তিশালী বিরোধী দল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী, দল অথবা যাঁরাই আছেন, প্রতিদিন কিভাবে সরকার উত্খাত করবেন সেই চিন্তা-ভাবনা করেন, তাঁদের এটা করতে হলে বা শক্তিশালী বিরোধী দল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর তারা ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অপরাধ কী ছিল? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। এটাই তো ছিল অপরাধ?’

আওয়ামী লীগ আবার সরকারে ফেরার পর এ দেশের মানুষ আবার ‘সেবা পাচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যদি কিছু পেয়ে থাকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই পেয়েছে। এ দেশটার উন্নতি কিভাবে করতে হবে এটা আওয়ামী লীগ জানে, আওয়ামী লীগই করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাড়ে ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ৬৪ জেলায় ইউনিয়ন হিসাব করে জেলা প্রশাসকদের কাছে কিছু টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে, কেননা যেকোনো জায়গায় তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনে তাঁরা যেন সেটা ব্যয় করতে পারেন এবং দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে ১০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া শিল্পী, কলা-কুশলী থেকে শুরু করে মসজিদ-মাদরাসায় অনুদান দেওয়া হয়েছে।

তিনি তাঁর সরকারের অনুদানের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানসহ সবাইকে দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এ সময় তিনি করোনা মোকাবেলায় টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, ভিড় এড়িয়ে চলাসহ স্বাস্থ্যবিধিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণে জণগণের প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিন করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, রিকশা ও ভ্যানচালক, মোটর শ্রমিকসহ কর্মহীন বিভিন্ন পেশার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী তিন দিনের মধ্যে নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ভিত্তিতে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে পৌঁছে যাবে এসব পরিবারের কাছে।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত এক লাখ কৃষক পরিবারের মোবাইল ফোনে এই সাহায্য পৌঁছে যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনা মহামারির কারণে যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের সহায়তার জন্য ‘নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে পরিবারপ্রতি দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ৮৮০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।