kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

আব্বাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট বিএনপি

কিছু সমর্থকের কর্মকাণ্ড থাকবে পর্যবেক্ষণে

এনাম আবেদীন   

৩ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আব্বাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট বিএনপি

ইলিয়াস আলীর ‘গুম’ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা আব্বাসের দেওয়া ব্যাখ্যায় মোটামুটি সন্তুষ্ট হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড, যে কারণে আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তা ছাড়া ‘সতর্কতামূলক’ একটি চিঠি দেওয়ার বিষয়ে প্রথম দিকে আলোচনা হলেও এখন সেটিও থেমে গেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।

তবে সূত্র বলছে, মির্জা আব্বাস না হলেও তাঁর কিছু সমর্থকের দিকে আরো কিছুদিন কড়া নজর রাখবে বিএনপির হাইকমান্ড। খোদ দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই তাঁদের তৎপরতার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছেন বলে জানা গেছে।

কারণ ওই সমর্থকরা অতি উৎসাহী হয়ে সাম্প্রতিককালে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি তারেক রহমানের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলছেন বলে তাঁর কাছে খবর গেছে। প্রচারণা চালিয়ে তাঁরা বলছেন, স্থায়ী কমিটির ওই নেতারাই নাকি পরিস্থিতি প্রভাবিত বা ঘোলাটে করে আব্বাসকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি ত্বরান্বিত করেছেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৭-এর (খ) অনুযায়ী চেয়ারম্যানই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। একই অনুচ্ছেদের ধারা (২) অনুযায়ী বিএনপির যেকোনো পর্যায়ের কমিটির নেতাদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাখেন। কারণ গঠনতন্ত্রের (গ)-এর ২ ও ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন চেয়ারম্যানের (খালেদা জিয়ার) সমুদয় দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে স্থায়ী কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে আব্বাস সমর্থকদের ওই তৎপরতায় বিএনপিতে বিভক্তি তৈরি হচ্ছে বলে দলের বড় অংশই মনে করছে। তাদের মতে, সব মত, পথ ও আদর্শের মানুষকে নিয়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ডান ও বামপন্থীদের সম্মিলনে তৈরি বিএনপিকে এ জন্যই মধ্যপন্থী দল বলা হয়। অথচ এই দলে এখন নতুন ও পুরনো ধুয়া তুলে দলের কিছু নেতা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর এ কারণেই সার্বিকভাবে বিষয়টি লন্ডনে তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্তত তিনজন নেতা অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, যুবদলের সাবেক কিছু নেতা মির্জা আব্বাসের পক্ষে মাঠে নেমে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন। তবে বিষয়টি তারেক রহমানের নজরে আছে। তাঁরা বলেন, মির্জা আব্বাস নিজে নেতা হিসেবে ততটা জটিল নন। কিন্তু নিজেরা কোণঠাসা হয়ে পড়ার ভয়ে সমর্থক ওই নেতারাই নানা তৎপরতায় দলে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন।

তারেকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় দুজন ভাইস চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে বলেন, ভাইয়া (তারেক রহমান) মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে তাঁরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তবে তাঁকে নমনীয় করার ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।    

জানা যায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী দু-একজন নেতা তারেক রহমানকে নমনীয় করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ব্যাখ্যা চাওয়া পর্যন্ত ঠিক আছে; কিন্তু মির্জা আব্বাসের মতো ত্যাগী নেতা বিএনপিতে কম। তা ছাড়া বিএনপি এখন এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তারেককে তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন। এ কারণেই আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সতর্কতামূলক চিঠি মির্জা আব্বাসকে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

গত ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে মির্জা আব্বাসের দেওয়া বক্তব্যে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তারেক রহমান। ওই দিন ভার্চুয়াল এক সভায় দেওয়া বক্তব্যে আব্বাস ইলিয়াস আলীর গুমের জন্য বিএনপিরই কিছু নেতাকে দায়ী করেন। তিনি এও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি।’

তারেকের নির্দেশে ২২ এপ্রিল চিঠি দিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে আব্বাসের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ২৬ এপ্রিল বিএনপির মহাসচিব বরাবর দেওয়া চিঠিতে আব্বাস বলেন, ‘আমার অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে যদি দলের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময় এমন কিছু শব্দ চলে এসেছে, যেগুলো ইচ্ছাকৃত নয়। আমি কোনো কথা দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বলিনি।’ ‘এই চিঠির মাধ্যমে দল ও দলের বাইরে চলমান সব ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হবে’ বলেও চিঠিতে আশা প্রকাশ করেন আব্বাস।     

জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মির্জা আব্বাসের বিষয়টি নিয়ে এখন আর দলে আলোচনায় নেই।’ তিনি বলেন, বিএনপির অত্যন্ত ত্যাগী একজন নেতা মির্জা আব্বাস আগের মতোই সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে কাউকে নিয়ে কোনো বিরোধ বা বিভক্তি নেই। সব মতের মানুষকে নিয়ে মধ্যপন্থী বিএনপিকে এ জন্যই মানুষ পছন্দ করে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মির্জা আব্বাসকে নিয়ে বিএনপিতে এখন আর কোনো ঝামেলা নেই। মাঝখানের কিছু লোক ঝড়ের মধ্যে আম কুড়ানোর চেষ্টা করেছে।’

সর্বশেষ গত ১ মে শনিবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন মির্জা আব্বাস এবং ওই দিনও তিনি বা তাঁর চিঠির জবাবের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।



সাতদিনের সেরা