kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

উগ্রবাদের ভয়েই তৃণমূলে আশ্রয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উগ্রবাদের ভয়েই তৃণমূলে আশ্রয়

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভোটে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। গতকাল ফল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় হার-জিতের চুলচেরা বিশ্লেষণ। এসব বিশ্লেষণে মমতার জয়ের পেছনে তৃণমূলের বিশেষ কোনো কৃতিত্ব দেখতে পাচ্ছেন না অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো দল তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

আবার কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি বিজেপির ভোট যেমন বাড়িয়েছে, আবার কমিয়েছেও। অন্যদিকে বাম নেতারা মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বললেও ভোটের মাঠে কোনো প্রতিফলনই দেখাতে পারেননি।

গতকাল চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই ‘মানসিকভাবে’ পরাজয় মেনে নেয় নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ ছাড়া গতকাল দুপুরেই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের কাছে বিপর্যয়ের কারণ জানতে চান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি অমিত শাহ। অবশ্য বিজেপির পরাজয়ের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দায়ী করছেন পশ্চিমবঙ্গের নেতারা। রাজ্যের এক শীর্ষ বিজেপি নেতা বলেন, ‘সেনাপতি হয়েছিলেন যাঁরা, ভোটে জিতলে সব কৃতিত্ব তাঁরাই নিতেন। এখন পরাজয়ের দায়ও তাঁদের নিতে হবে।’

আরো অনেক নেতাই মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব রাজ্যের হাত থেকে কেন্দ্র নিয়ে নেওয়ার কারণেই বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। ক্ষুব্ধ নেতারা জানান, রাজ্যের কোন এলাকায় দলের অবস্থা কেমন, তা দেখতে পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপর কী না করেছে বিজেপি! ২৯৪ কেন্দ্রে আলাদা রথযাত্রা করেছে। কৃষক সুরক্ষাযাত্রা থেকে শুরু করে কৃষকদের সঙ্গে সহভোজ—সবই করেছে। এসব করতে গিয়ে রাজ্যে সাংগঠনিক কাজেই সময় দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা বলেন, ‘জেলায় জেলায় অন্য রাজ্য থেকে আসা বিজেপি পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিশ্বাস দেখিয়েছেন। বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও নিজেদের রাজ্যের অভিজ্ঞতা বাংলায় প্রয়োগ করতে চেয়েছেন। বারবার বলেও কাজ হয়নি। রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের কথা শোনা হয়নি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও।’

বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিও অনেক ভোটারকে তৃণমূলের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের এই রাজনীতি ভোট বাড়ালেও অনেক ক্ষেত্রে উল্টো প্রভাব ফেলেছে। কারণ, অনেক হিন্দুও মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে একমত নন। আর যেসব ভোটার নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবেন, তাঁদের একটি ভোটও বিজেপি পায়নি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সঞ্জীব মুখার্জি মনে করেন, ‘বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি একেবারে ব্যর্থ হয়নি। হিন্দুদের একটা বড় অংশ অবশ্যই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। কারণ তারা আগের চেয়ে এবার বেশি ভোট পেয়েছে। কিন্তু লোকসভার তুলনায় বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির ভোট সব রাজ্যেই ১২ থেকে ১৬ শতাংশ কমেছে। পশ্চিমবঙ্গেও ব্যতিক্রম হয়নি।’

পশ্চিমবঙ্গে একসময় বামেরা সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল। কিন্তু ২০১১ সালের বিপর্যয়ের পর তারা দ্বিতীয় অবস্থানও ধরে রাখতে পারছে না। মানুষের কাছে ক্রমেই তাদের দর্শন মূল্য হারিয়ে ফেলছে। বরং বিজেপি এখন তাদের মাঠ দখল করে নিয়েছে। বিজেপির হিন্দুত্ববাদ সেখানে তীব্র মেরুকরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। বাম নেতাদের বিশ্বাস ছিল, তাদের শ্রেণি-রাজনীতি ধর্মবাদী মেরুকরণকে হারিয়ে দেবে। কিন্তু কার্যত তা হয়নি। অন্যদিকে মমতাই ভালো করেছেন। শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। সেই চেষ্টার সুফল তিনি আগেও পেয়েছেন, এবারও পেলেন। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

 



সাতদিনের সেরা