kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

ক্যাচ ছাড়ার মাসুল গুনছে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কা : ৯০ ওভারে ২৯১/১, (প্রথম দিনের শেষে)

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্যাচ ছাড়ার মাসুল গুনছে বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ড সফর থেকেই ফিল্ডিং ব্যর্থতার বলি হয়ে আসতে হচ্ছে তাঁকে। সেখানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ক্যাচের পর ক্যাচ পড়ে উইকেট না পাওয়ার বঞ্চনায় পুড়তে হয়েছে তাসকিন আহমেদকে। সেই দুর্ভাগ্য এবার এই ফাস্ট বোলারের পিছু নিল ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও। দিমুথ করুণারত্নের যেখানে ফিফটিই হয় না, সেখানে নিজের দ্বাদশ টেস্ট সেঞ্চুরি করে বসে থাকলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। লাহিরু থিরিমানেকে নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ২০০ ছাড়ানো ওপেনিং জুটির নতুন রেকর্ডও লেখা হয়ে গেল তাতে। দিনের শেষ সেশনে করুণারত্নেকে ফেরানো গেলেও যায়নি নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিকে আরো বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার অপেক্ষায়

থাকা থিরিমানেকে। এমনিতেও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সারা দিনে সুযোগ তৈরি হয়েছে কম। এর মধ্যেও আসা অল্প কিছু সুযোগ নষ্ট হওয়ায় শ্রীলঙ্কার মাত্র ১ উইকেটই তুলতে পারল বাংলাদেশ। দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২৯১ রান।

একই ভেন্যুতে প্রথম টেস্টের উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই না থাকায় পেয়েছে ডিমেরিট পয়েন্ট। তবে ফল বের করতে স্বাগতিক দলের অন্য রকম উইকেটের চাহিদায় এবার অন্য রকম পিচ। ঘাসের লেশমাত্র নেই, একেবারেই ন্যাড়া। যা টেস্টে চতুর্থ কিংবা পঞ্চম দিনে ভাঙলে স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকবে। এর আগ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে খেলার উইকেটে টস জিতেই ব্যাটিং নিয়ে নেন লঙ্কান অধিনায়ক। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকও বলে দেন যে ‘টস জিতলে আমিও ব্যাটিং নিতাম।’ যদিও প্রথম ঘণ্টায় সফরকারী দলের বোলাররা পরীক্ষা নিয়ে ছেড়েছেন দুই লঙ্কান ওপেনারের। নতুন বলে মুভমেন্ট আদায় করে নেওয়া তাসকিনই শুধু নন, আবু জায়েদ এবং অভিষিক্ত শরিফুল ইসলামও একাধিকবার প্রতিপক্ষের ওপেনিং জুটিকে সমস্যায় ফেলেছেন। তবে প্রথম ঘণ্টা রান করার কথা ভুলে ও দেখেশুনে খেলে পার করে দেওয়ার পর চেনা ছন্দে দেখা দেন করুণারত্নে ও থিরিমানে। নিয়মিত বিরতিতে আসতে থাকে বাউন্ডারি। একই সঙ্গে খরার দিনে অমূল্য সুযোগও আসতে থাকে দিনের প্রথম সেশনে। এর মধ্যে তাসকিনের বলেই আসে তিনটি।

এর মধ্যে দুটি একটু কঠিন হলেও একটি সহজ। করুণারত্নে ২৮ রানে মিড অফে ক্যাচ দেন। বুঝে ওঠার ভুলে অধিনায়ক মমিনুল বলের কাছেই যেতে পারেননি। দুই বল পরই স্লিপে লঙ্কান অধিনায়কের সহজ ক্যাচটি ফেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। একই বোলারের বলে থিরিমানেও সুযোগ দেন। কিন্তু গালিতে ঝাঁপিয়ে পড়েও বল হাতে জমাতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে ব্যাটসম্যানদের ভোগান্তিতে ফেলতে থাকা বোলিংও এরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ছন্দ হারাতে থাকে। তাই সহজেই রান তুলতে থাকে করুণারত্নে-থিরিমানে জুটি। বিনা উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় লঙ্কানরা। চা বিরতির সময় বিনা উইকেটে ১৮৮ রান। আগের ম্যাচে ২৪৪ রানের ইনিংস খেলা করুণারত্নের ততক্ষণে ১৬৫ বলে সেঞ্চুরিতেও পৌঁছা হয়ে গেছে। শেষ সেশনে ২১২ বলে সেঞ্চুরির মুখ দেখেন থিরিমানেও। ওই সেশনেই দিনের একমাত্র সাফল্যটি পায় বাংলাদেশ। শরিফুলের করা অফস্টাম্পের বাইরের বলে চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে করুণারত্নে ফিরে যাওয়ার সময় এই জুটির রান ২০৯। এরপর ওশাদা ফার্নান্ডোকে (৪০*) আরেকটি দারুণ জুটিও গড়ে ফেলা থিরিমানে অপরাজিত ১৩১ রানে। নতুন বল নিয়েও আরেকটি সাফল্যের আশা পূরণ হয়নি বাংলাদেশের। অথচ সতীর্থদের ব্যর্থতায় তাসকিনকে উইকেট বঞ্চিত হতে না হলে দিনটি এমন হতাশার হয় না বাংলাদেশের!



সাতদিনের সেরা