kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

ভারতের কভিড পরিস্থিতিতে নিবিড় দৃষ্টি রাখবে ছয় দেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের কভিড পরিস্থিতিতে নিবিড় দৃষ্টি রাখবে ছয় দেশ

ভারতের কভিড-১৯ পরিস্থিতির দিকে নিবিড় দৃষ্টি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ, চীন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। গত মঙ্গলবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই সিদ্ধান্ত নেন।

গতকাল বুধবার ছয় দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে আরো বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে যথাযথ মাধ্যমে আলোচনা করে ওই ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকে ছয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কভিড-১৯ মোকাবেলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) যথার্থ ভূমিকার প্রতি জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা স্বীকার করেন যে ওই ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধান করা বিজ্ঞান ও বৈশ্বিক মিশনের বিষয়। তাঁরা এই ইস্যু নিয়ে রাজনীতির বিরোধিতা করেন। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের রূপান্তরের দিকে নিবিড় দৃষ্টি রাখার ক্ষেত্রে এই ছয়  দেশ সহযোগিতা জোরদার করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কভিড-১৯ যৌথভাবে মোকাবেলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া তাঁরা কভিড মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন।

কভিড-১৯-কে মানবতার অভিন্ন শত্রু হিসেবে অভিহিত করে ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য সহযোগিতা ও সহমর্মিতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চীন তার সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য পাঁচ দেশকে চিকিৎসাসামগ্রী ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত বলে বৈঠকে জানায়। এসব দেশ চীনের ভূমিকার প্রশংসা করে।

বাংলাদেশ, চীনসহ ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কভিড-১৯ মোকাবেলার অস্ত্র হিসেবে টিকা ন্যায্যতা ও সাম্যের নীতি অনুসরণ করে বিতরণের পক্ষে মত দেন। ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’ (অন্য দেশের আগে শুধু নিজেদের নাগরিকদের জন্যই টিকা নিশ্চিত করা) কভিড-১৯-কে পরাজিত করতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন এবং ‘ইমিউনিটি’ ব্যবধান না হওয়ার বিষয়ে জোর দেন।

বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় চীনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব দেশকে চীনের টিকা সরবরাহ ও যৌথ উদ্যোগে ওই টিকা উৎপাদন সহজ হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড কো-অপারেশন’ আরো জোরদার, বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপদ ও স্থিতিশীল করার জন্য সীমান্ত খোলা রাখার ওপর জোর দেন। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কভিড-১৯-এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পাঁচ দেশকে সহযোগিতার বিষয়ে চীন সম্মত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, কভিড-১৯ মহামারির পটভূমিতে লোকজনের যাতায়াতের জন্য ডিজিটাল ‘হেলথ কোড’কে পারস্পরিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছেন ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চীন তিনটি ঘোষণা দিয়েছে। এগুলো হলো জরুরি মেডিক্যাল সামগ্রী মজুদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন ও সমবায় উন্নয়ন কেন্দ্র চালু এবং পল্লী এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ে ই-কমার্স সহযোগিতা ফোরাম প্রতিষ্ঠা। এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে অন্য পাঁচ দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সবার অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, টেকসই ও চাহিদার নিরিখে এসব বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ছয় দেশ তাদের এই উদ্যোগে অন্য দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও স্বাগত জানিয়েছে। সহযোগিতার বিষয়ে আগামী দিনে পররাষ্ট্রসচিব ও মহাপরিচালক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।