kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

সংকট এড়াতে ১২ সপ্তাহে দ্বিতীয় ডোজের কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংকট এড়াতে ১২ সপ্তাহে দ্বিতীয় ডোজের কৌশল

সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময় আট সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ১২ সপ্তাহ করার কৌশলে যেতে পারে সরকার। ভেতরে ভেতরে এমন পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে অর্থাৎ হাতে থাকা টিকা শেষ হওয়ার দুই-তিন দিন আগেও যদি ভারতের সেরাম বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে অক্সফোর্ডের প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা না আসে তাহলে শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় ডোজের সময়সীমা ১২ সপ্তাহ করার ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি হাতে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই এমন তথ্য জানা গেছে।

টিকা আসা না আসা দিয়ে নানা দোলাচলের মধ্যেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যেই চীনের উপহারের টিকা দেশে আসতে পারে। এর পরপরই কোভ্যাক্সের টিকাও কিছু না কিছু আসবে। এ ক্ষেত্রে কোভ্যাক্স থেকে ফাউজারের টিকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে কিছু সংখ্যক অক্সফোর্ডের টিকাও আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব টিকা আসার দিনক্ষণ গতকাল সোমবার পর্যন্ত ওই সূত্রগুলো নিশ্চিত হতে পারেনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, আপাতত ভারত থেকে অক্সফোর্ডের টিকা আসার সম্ভাবনা নেই।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) ডা. শামসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব টিকাই আসবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে সমস্যা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো জানানো হয়নি।’

ডা. শামসুল হক বলেন, ‘অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ থেকে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময়সীমা প্রটোকল অনুযায়ীই ৪-১২ সপ্তাহ। একেক দেশ নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা প্রথম চার সপ্তাহ করেছিলাম, পরে তা বাড়িয়ে আট সপ্তাহ করেছি। এখন যদি প্রয়োজন হয় তবে তা ১২ সপ্তাহ করলে ক্ষতির কিছু নেই। বরং কয়েকটি দিক থেকে ভালোই হবে।’ এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এমনিতেই প্রটোকলে আছে চার বা ছয় সপ্তাহ থেকে আট

 সপ্তাহ পর টিকার কার্যকারিতা বেশি। আর ১২ সপ্তাহ পর হলে কার্যকরিতা আরো বেশি হয়। সেদিক থেকে এটা যাঁরা নেবেন তাঁদের জন্য ভালো হবে। অন্যদিকে আমাদের টিকা জোগাড়ের সময়ও আরো এক মাস বেশি পাওয়া যাবে। উচ্চ পর্যায় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সে অনুসারে কাজ করব।’

আগের দিন প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গতকাল ৮৯১ জন নিয়েছেন প্রথম ডোজ। এ ছাড়া দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৩৫৭ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ২৯১ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ৫৮ হাজার ২২৩ জনকে। এখন হাতে আছে ২০ লাখ ২২ হাজার ৪৮৬ ডোজ টিকা।

এদিকে টিকার নিবন্ধনও কমে গেছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ১০ হাজার ৪৪৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আমরা প্রথম ডোজ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কয়েকটি এলাকায় বিষয়টি কেউ কেউ ঠিকভাবে জানতে না পারায় বয়স্কদের নিয়ে কেন্দ্রে এসে পড়েছিল, ফলে তাদেরকে না ফিরিয়ে মানবিক কারণেই টিকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নিবন্ধন বন্ধ করিনি, আর করবও না। যার যার মতো নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। এখন প্রথম ডোজ বন্ধ থাকলেও তা আবার যেকোনো সময় চালু হয়ে যাবে। তখন এই নিবন্ধন অনুসারেই টিকা দেওয়া হবে।’