kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

বিচার না পেয়ে হতাশ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা

♦ নিহত শ্রমিকদের স্মরণে অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা
♦ রানাসহ দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাভার   

২৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিচার না পেয়ে হতাশ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িতদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক ক্ষতিপূরণ দাবিতে এবং নিহতদের স্মরণে গতকাল শ্রমিকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল আলোচিত সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির আট বছর উপলক্ষে গতকাল শনিবার নানা কর্মসূচি পালন করেছে ওই দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার লোকজন। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনার দীর্ঘ আট বছরেও বিচার ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পেয়ে তাঁরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভবন মালিক রানাসহ দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল সকালে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে সাভারে রানা প্লাজার সামনে নিহতদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখানে সকাল থেকেই অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ মোতায়েন ছিল।

সাভারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা, বাসস্থান এবং যাঁরা ক্ষতিপূরণ পাননি তাঁদের চিহ্নিত করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণসহ ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দিবসে সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানান।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে সকাল ১০টায় অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না; দোষীদের ছাড়বো না’ স্লোগান নিয়ে সংগঠনটির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, সরকার ও মালিকরা রানা প্লাজার ঘটনাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চাইছে। রানা প্লাজা, তাজরীন, স্পেকট্রাম, সারাকা, কেটিএস, গরিব অ্যান্ড গরিবসহ অসংখ্য কারখানায় আগুনে পুড়ে, ভবন ধসে শ্রমিকরা জীবন দিয়েছেন। তাঁদের অবদানকে স্বীকার করতে হবে।

আহত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার দাবি জানিয়ে গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (জিটিইউসি) নেতারা বলেন, তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছে না। তাই সরকারকেই তাঁদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারসহ সংগঠনের অন্য নেতারাও বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন। তাঁরা ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দিবসে সব গার্মেন্টশিল্পে সাধারণ ছুটি ঘোষণা, রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ হোসাইন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল প্রমুখ। এ ছাড়া শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ, বিল্স এবং গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদভুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

নিহতদের স্মরণে ১১৩৮ গোলাপে শ্রদ্ধা : রানা প্লাজা ধসে পড়ার আট বছর পূর্তির দিনে গতকাল নিহতদের প্রতি  শ্রদ্ধা জানান স্বজন, আহত শ্রমিকসহ অনেকে। গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ নামের একটি সংগঠন এবার এক হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সমসংখ্যক গোলাপ ফুল দিয়ে পুষ্পাঞ্জলি তৈরি করে। গতকাল সকালে অস্থায়ী বেদিতে তা অর্পণ করা হয়।

জুরাইন কবরস্থানে শ্রদ্ধাঞ্জলি : রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানেও রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের কবরে গতকাল শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে শ্রমিকদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৯১ জন শ্রমিককে এই কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে গতকাল সকালে বিজিএমইএর উদ্যোগে জুরাইন কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ শ্রদ্ধা জানানো শেষে কবর জিয়ারত করে।



সাতদিনের সেরা