kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

মৃত্যু শনাক্ত দুটিই কমেছে

১০ দিন পরে মৃত্যু ৯০-এর নিচে, শনাক্ত ৩৬২৯

তৌফিক মারুফ   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মৃত্যু শনাক্ত দুটিই কমেছে

১০ দিনের মাথায় দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৯০-এর নিচে অর্থাৎ ৮৮ জনে নেমেছে। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ছিল ৬৯; কিন্তু পরদিন ১৪ এপ্রিল তা ৯৬-এ উঠে যায়। এর পর থেকে প্রতিদিন মৃত্যু ছিল ৮৮ জনের বেশি এবং সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল ১৯ এপ্রিল, ১১২ জন। গত কয়েক দিনে মৃতের সংখ্যা কমে আসতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে মৃত্যুর হার আরো কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সমীকরণে মৃতের সংখ্যা ওঠানামা চলছে। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী দেশে শনাক্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে যখন ছয়-সাত হাজারে ছিল, তখনকার আক্রান্তদের মধ্য থেকেই দুই সপ্তাহের মাথায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে। পরে শনাক্তসংখ্যা কমতে থাকায় এখন মৃতের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। অর্থাৎ গত এক সপ্তাহে শনাক্তের হার যে পর্যায়ে আছে তার ভিত্তিতে এক সপ্তাহ পরে মৃতের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এমন আশাবাদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একসঙ্গে স্বাভাবিক করে দেওয়া হলে ঈদের পরে আগের চেয়েও তীব্র গতিতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া বা দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানার ঝুঁকি রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ৫ এপ্রিল থেকে দুই ধাপে যে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বিদ্যমান আছে, আমরা এখন তার সুফল দেখতে পাচ্ছি শনাক্ত ও মৃত্যু কমে আসার মধ্য দিয়ে। আরো এক সপ্তাহ পরে মৃতের সংখ্যা এক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণের আনুপাতিক হিসাবে এখনকার চেয়ে অর্ধেকে নেমে আসবে। সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে আরো কমতে থাকলে পরবর্তী সময়ে মৃত্যু আরো

কমবে।’

তবে এই রোগতত্ত্ববিদ একই সঙ্গে বলেন, ‘ঢিলেঢালা লকডাউন কিংবা দোকানপাট খুলে দেওয়ার সুযোগে মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অসতর্কভাবে চলাফেরা করে, তবে আবারও ভয়ানক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে সামনে ঈদের ভিড় নিয়ে আমরা এখনই উদ্বেগের মধ্যে আছি। মানুষ যদি হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তবে ঈদের পরে দেশে তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানবে, যা দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়েও ভয়ানক হতে পারে।’

ড. মুশতাক বলেন, দোকানপাট খোলার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে তা ঠিক হয়নি, যদি খুলতেই হয় তবে খোলা রাখার সময়সীমা বরং আগের তুলনায় বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। অর্থাৎ সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকলে মানুষের ভিড় দিনের বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে, একসঙ্গে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়বে না। এ ছাড়া শপিং মল ও দোকানপাট খোলার পরপরই গণপরিবহন খোলারও প্রশ্ন আসবে, সেটি কিভাবে সামাল দেওয়া হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। আগে তো অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সেটিও সঠিকভাবে মানা হয়নি। এখন যদি পরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো যায় এবং যদি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব দায়িত্বে কর্মীদের আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে, তবে গণপরিবহনের ওপর চাপ কমবে এবং স্বাস্থ্যবিধিও অনেকটা মেনে চলা যাবে। তা না হলে বিপদ বেড়ে যাবে।

আরেক জনস্বাস্থ্যবিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ এ বিষয়ে প্রায় একই কথা বলেছেন কালের কণ্ঠকে। তিনি বলেন, ‘আমরা লকডাউনের যে সাফল্য বা অর্জন এখন দেখছি, সেটি খুবই আশাবাদী হওয়ার মতো। আগামী ৮/১০ দিনের মাথায় মৃত্যু অনেকটাই কমে যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই অর্জন আমরা সংক্রমণের ক্ষেত্রে ধরে রাখতে পারব কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। মাঝপথে যদি লকডাউন তুলে দেওয়া হয় কিংবা সব কিছু শিথিল হয়ে যায়, তবে এর লক্ষ্য পূরণ হবে না। বরং সংক্রমণ যতটুকু কমে আসছিল, তা আবার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে ঈদের সময় যদি সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে ঈদের পরে আমাদের যে আবার চরম মূল্য দিতে হবে, এটা প্রায় নিশ্চিত।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৮৮ জন, নতুন শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৬২৯ জন এবং সুস্থ হয়েছে পাঁচ হাজার ২২৫ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত সাত লাখ ৩৯ হাজার ৭২৩ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ছয় লাখ ৪৭ হাজার ৬৭৪ জন, চিকিৎসাধীন আছে অনেকে এবং মারা গেছে ১০ হাজার ৮৬৯ জন।

ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বশেষ যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ২৬ জন নারী। তাদের বয়স ১০ বছরের নিচে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ছয়জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ছয়জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১৫ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ৬০ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৩ জন ঢাকা বিভাগের, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৮ জন, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও রংপুরের তিনজন করে এবং ময়মনসিংহের পাঁচজন। সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৫৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৪ জন এবং হাসপাতালে আনার পথে একজন মারা গেছেন।