kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

একই দিনে ফতুল্লায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ১১

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




একই দিনে ফতুল্লায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ১১

পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় আগুনে চারজনের প্রাণহানি ও আরো বেশ কজন দগ্ধ হওয়ার দিন নারায়ণগঞ্জে একটি ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ ১১ জন দগ্ধ হয়েছে। সদর উপজেলার ফতুল্লায় পশ্চিম তল্লা জামাই বাজার এলাকায় ভবনটির তৃতীয় তলায় গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লায় মো. আল আমিনের মালিকানাধীন তিন তলাবিশিষ্ট ভবনটিতে গতকাল ভোরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি পরিবারের ১১ জন সদস্য দগ্ধ হন। তাঁরা হলেন—লিমন, সাথী, মীম, মাহিরা, আলেয়া, হাবিবুর রহমান, সোনাহার, শান্তি, সামিউল, ফাহাদ ও মনোয়ারা। তাঁদের মধ্যে প্রথমোক্ত পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে সকালেই জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কর্মকর্তা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা থেকে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের তিন সদস্যের একটি দলও গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সদর ইউএনও। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন জেলা প্রশাসক।

ইউএনও আরিফা জহুরা জানান, বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি এরই মধ্যে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিদগ্ধদের সরকারি সহায়তা প্রদানে কার্যক্রম চলমান।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে ঘরে গ্যাস লিকেজ হয়ে পুঞ্জীভূত ছিল। এতে যেকোনো আগুনের স্পার্ক থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাস বিস্ফোরণে তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলার দুটি কক্ষের পূর্ব দিকে দেয়াল বিধ্বস্ত হয়ে পাশের ভবনে গিয়ে পড়েছে। ঘরের আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলিং ফ্যানও দুমড়েমুচড়ে গেছে।

এলাকাবাসী ও ভবন মালিক আল আমিন জানান, তিনতলা ভবনের দুটি কক্ষে দুটি পরিবার সাবলেট নিয়ে বসবাস করছিল। তাদের বেশির ভাগই গার্মেন্টে কাজ করে। সকালে বিস্ফোরণের শব্দ ও পরমুহূর্তেই আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের সবাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আহতদের চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় ডিশ কেবলে আগুন লেগে যায় এবং ভবনটির নিচতলায় অবস্থিত গ্যাস রাইজারেও আগুন ধরে যায়। পরে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিভিয়ে অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ভবনটির অন্য ফ্ল্যাট ও আশপাশের ভবনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোরে হঠাহৃ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে তৃতীয় তলার দেয়াল ভেঙে নিচে পড়ে যায়। আগুনের তাপ পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গেছে। রান্নাঘর ও বাথরুমের দুটি দেয়াল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা জানায়, এ ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে একটি পরিবারের ছয়জন ও আরেক পরিবারের পাঁচজন রয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) ইমরান মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জের ডেপুটি ম্যানেজার গোলাম ফারুক জানান, ঘটনাস্থলে জরুরি টিম কাজ করছে। সেখানে গ্যাসলাইনের সমস্যা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিতাসের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এই পশ্চিম তল্লাতেই বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এশার নামাজ পড়তে যাওয়া ৩৭ জন মুসল্লি ও একজন পথচারী দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 



সাতদিনের সেরা