kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নাজমুলের পর মমিনুল

বাংলাদেশ : ১৫৫, ওভারে ৪৭৪/৪ (দ্বিতীয় দিনের শেষে)

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




নাজমুলের পর মমিনুল

বিশ্বরেকর্ড গৌরবেরই হওয়ার কথা, কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেটি উল্টো কলঙ্কেরই প্রতিশব্দ ছিল। এত দিন দশ-দশটি টেস্ট সেঞ্চুরির সবই ছিল দেশের মাটিতে। বিদেশের মাটিতে কোনো সেঞ্চুরি না করে দেশে সেঞ্চুরির দুই অঙ্কে পৌঁছে যাওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান মমিনুল হক সেই কলঙ্কতিলক অবশেষে মুছে দিতে পারলেন। পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিন দেখা পেলেন বিদেশের মাটিতে আরাধ্য সেই প্রথম সেঞ্চুরির। আগের দিনই নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে গড়লেন ২৪২ রানের রেকর্ড গড়া জুটিও। ডাবল সেঞ্চুরিতে যেতে না পারলেও নিজের বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্যের জানান দিলেন নাজমুলও। দুয়ে মিলেই পাল্লেকেলেতে আরেকটি দাপুটে দিন পার করল বাংলাদেশও। ৪ উইকেটে ৪৭৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করা মমিনুলদের অপেক্ষায় আজ আরো বড় সংগ্রহই।

হালকা বৃষ্টির পর আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ার কারণে আলোর স্বল্পতায় ২৫ ওভার আগেই খেলা শেষ না হলে দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনেই সফরকারীরা ৫০০ পেরিয়ে যেতে পারত। অবশ্য বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইনিংসটিও এই শ্রীলঙ্কাতেই। ২০১৩ সালের মার্চে গলে প্রথম ইনিংসে ৬৩৮ রান করেছিলেন তারা। ওই ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিল মুশফিকুর রহিম। ১৯০ রানে আউট হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে সেঞ্চুরি দেখেছিল নাসির হোসেনের ব্যাটও। ড্র হওয়া সেই ম্যাচেই অভিষিক্ত মমিনুল হক করেছিলেন ফিফটি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৯ বছরে দেশে সেঞ্চুরি করা নিয়মিত ঘটনা হয়ে গেলেও বিদেশে কালকের আগ পর্যন্ত তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৭৭ রানের। দেশের বাইরে মাত্র ছয়টি ফিফটি করা বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক যে এবার সেঞ্চুরির জন্য কতটা মরিয়া ছিলেন, সেটি তাঁর ব্যাটিংই বুঝিয়ে দিতে যথেষ্ট। ৬৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা মমিনুল অফস্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে বাউন্ডারি মেরে পরম স্বস্তির মাইলফলকে পা রাখেন ২২৪ বলে, যা তাঁর ১১ টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির। এর আগে তাঁর মন্থরতম সেঞ্চুরিটিও ১৭৩ বলে করা।

১২৬ রান নিয়ে মমিনুলের সঙ্গে দ্বিতীয় দিন শুরু করা নাজমুলের ব্যাটেও ছিল আরো বড় কিছু করার প্রত্যয়। এই জুটি তাই নির্বিঘ্নেই পার করে দেয় দিনের প্রথম সেশন। আগের দিনের তুলনায় লঙ্কানদের অনেক গোছানো বোলিংয়েও দেখেশুনে খেলা মমিনুল-নাজমুল তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটিও গড়ে ফেলেন। এর আগের সর্বোচ্চ ২৩৬ রানের জুটিতেও জড়িয়ে আছে মমিনুলের নাম। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সেই জুটিতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে আরেকটি রেকর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মুশফিককে পেরিয়ে যেতে পারেনি মমিনুল-নাজমুল জুটি। তাঁদের জুটি খেলেছে ৫১৪ বল। ২০১৩ সালের সেই গল টেস্টে ২৬৭ রানের পার্টনারশিপ (পঞ্চম উইকেটে) গড়ার পথে আশরাফুল-মুশফিক মিলে খেলেছিলেন বাংলাদেশের যেকোনো জুটির রেকর্ড ৫১৮ বল। নাজমুলের বিদায়ে ভাঙে অল্পের জন্য সেই রেকর্ড ভাঙতে না পারা জুটি। পেসার লাহিরু কুমারাকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়া নাজমুল ৩৭৮ বলে খেলেন ১৬৩ রানের ইনিংস। ধনঞ্জয়ার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে থামে মমিনুলের ১২৭ রানের ইনিংস। এরপর মুশফিক (৪৩*) ও লিটন কুমার দাসের (২৫*) জুটিতেও উঠে গেছে ৫০ রান, যা দিনজুড়ে অব্যাহত রেখে গেছে বাংলাদেশের দাপটও।

 



সাতদিনের সেরা