kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

রাজশাহীতে কৃষিজমি উজাড় করে বছরে হাজারো পুকুর

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীতে কৃষিজমি উজাড় করে বছরে হাজারো পুকুর

গত বছর এই সময়ে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর হোজা বিলের মাঝখান দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি কার্পেটিং করা হয়। তবে চলতি বছর বর্ষা না আসতেই রাস্তাটি ভেঙে চুরমার। এর কারণ মাটি বহনকারী বিপুলসংখ্যক ট্রাক্টরের চলাচল। হোজা বিলে একের পর এক পুকুর খনন করে ট্রাক্টরে করে মাটি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে দূর-দূরান্তে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হোজা বিলের চারদিকে পুকুর আর পুকুর। চলতি বছর শীতকাল শুরু হলে কাটা শুরু হয় মাটি। তা এখনো অব্যাহত আছে। রাজশাহীর দুর্গাপুরের হোজা বিলসহ আশপাশের উজান খলশি, নওপাড়া, দাওকান্দি, বাগমারা, পবা, মোহনপুর, তানোর, পুঠিয়া ও চারঘাটে ব্যাপক হারে কৃষিজমি থেকে মাটি তুলতে খনন করা হচ্ছে পুকুর। এ কারণে গ্রামে নতুন যে রাস্তাগুলো কার্পেটিং করা হয়েছিল, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইভাবে বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি। এ অবস্থায় আসছে বর্ষায় ব্যাপক হারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষিজমিতে অসংখ্য পুকুর খনন করায় গত বছর বর্ষা মৌসুমে বাগমারায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ বছরও একইভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বাগমারাসহ দুর্গাপুর, পুঠিয়া, মোহনপুর, চারঘাট ও তানোরে।

তথ্যানুসারে, রাজশাহীর বিভিন্ন বিলে চলতি বছর অন্তত হাজারখানেক পুকুর খনন করা হয়েছে। দুর্গাপুরের বিভিন্ন বিলেই খনন করা হয়েছে অন্তত ৬০০ পুকুর। এসব পুকুর খননের পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুকুরগুলো খনন করে কৃষিজমি উজাড় করা হচ্ছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে শতাধিক লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কখনো কখনো লোক-দেখানো পুলিশ গিয়ে ঘুরে এসেছে। দু-এক জায়গায় লোক-দেখানো অভিযানও চালিয়েছে; কিন্তু বন্ধ হয়নি ক্রমাগত পুকুর খনন।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পবার একটি বিলে অন্তত ৪০ বিঘা কৃষিজমি দখল করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। পুকুর খনন করছেন পারিলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ও হরিয়ান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু। তাঁরা দুজনই আওয়ামী লীগ নেতা। স্থানীয় কৃষকদের কৃষিজমি জোর করে বছর চুক্তিতে বন্ধক নিয়ে খনন করা হচ্ছে পুকুর। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি।

স্থানীয় আকবর হোসেন বলেন, ‘প্রতিবাদ করেছি, কোনো লাভ হয়নি। তাঁরা আওয়ামী লীগের নেতা। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি। এ উপজেলায় চলতি বছর শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে।

এতে কৃষিজমি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি পুকুর খননের মাটি পরিবহনে ট্রাক্টর চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাগুলো ভেঙে চুরমার হচ্ছে। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।’

দুর্গাপুর জুগিশো গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চোখের সামনে কৃষিজমি কেটে পুকুর করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লোকজনকে ম্যানেজ করে প্রশাসনকে কিছু টাকা দিয়ে রাতারাতি কৃষিজমি কেটে পুকুর করা হচ্ছে।’

রাজশাহীর বাগমারার মাঝিড়া গ্রামের মাজিদুল বলেন, ‘বাগমারাজুড়ে কৃষিজমি উজাড় করে পুকুরে ভরে গেছে। আগে প্রশাসন বাধা দিত। এখন প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘পুকুর খনন নিয়ে কিছু বলার নেই। বাধা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। জমি যাঁর, তিনি অধিকার রাখেন সেখানে তিনি কী করবেন।’