kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

কবরীকে চোখের জলে বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কবরীকে চোখের জলে বিদায়

সারাহ বেগম কবরী

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় বনানী কবরস্থান প্রাঙ্গণে তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। পরে বাদ জোহর জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয় তাঁকে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে মারা যান দেশের চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত কবরী। রাতে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। সকালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মোহাম্মদপুর আল মারকাজুলে। গোসল শেষে গুলশান ২ নম্বর এলাকার লেক রোডের বাড়িতে শেষবারের মতো নেওয়া হয় কবরীকে। সেখানে তাঁকে দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেক সহকর্মী।

করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই কিংবদন্তির জানাজা ও দাফনকাজ সম্পন্ন হয়। এ সময় কবরীর ছেলে শাকের চিশতীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষবারের মতো এই শিল্পীকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, সাবেক সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল হকের তরফ থেকে এ শিল্পীকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

গত শতকের ষাটের দশকে সেলুলয়েডের পর্দায় আবির্ভূত হয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে হিসেবে দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেওয়া কবরী পরের অর্ধশতকে দুই শতাধিক সিনেমায় আলো ছড়িয়েছেন। শীর্ষ পাঁচ ঢাকাই নায়কের অভিষেক ঘটেছে তাঁর হাত ধরেই।

১৯৭১ সালে অভিনেত্রী কবরী কলকাতায় গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে দেশে ফিরে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন সিনেমায়। অভিনয় ছাড়াও চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চলচ্চিত্রের নায়িকা থেকে সরাসরি ভোটে তিনিই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৬ সালে মুক্তি পায় কবরীর পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আয়না’। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ সরকারি অনুদানে ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামে দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন কবরী। কিন্তু শেষ করে যেতে পারলেন না।