kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে জোর দেওয়ার তাগিদ

অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে তিন অর্থনীতিবিদের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে জোর দেওয়ার তাগিদ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা ও করোনাভাইরাস মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের তিন অর্থনীতিবিদ। গতকাল শনিবার ‘শিল্পায়ন : শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ শীর্ষক বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তাঁরা।

অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক-উজ জামান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের  সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান।

অধ্যাপক আবুল বারকাতের সদ্য প্রকাশিত ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র : ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ গমবষণা গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ঘিরে ১৩ সিরিজের আলোচনাসভার এই ষষ্ঠ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশের ময়মনসিংহ থেকে কলকাতা পর্যন্ত রেললাইন করা হয়েছিল কেবল পাট পরিবহনের জন্য, মানুষের জন্য নয়। আবুল বারকাত তাঁর বইয়ে যে কথাটা বলেছেন আমি তাঁর সঙ্গে একমত যে, প্রাকৃতিক সম্পদে সবারই সমান মালিকানা থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ পরিস্থিতি এড়াতে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে আমাদের ফিরে যেতে হবে।’

স্বাধীনতার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়নের বৈষম্য তুলে ধরে কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ওই সময়ের মিল মালিকরা ছিলেন সবাই পশ্চিম পাকিস্তানের। আমাদের পাট চাষিরা দাম পেত কম। এই শোষণ এবং সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য আবুল বারকাতের বইয়ে উল্লেখ আছে।

অধ্যাপক ড. শফিক-উজ জামান বলেন, ‘প্রকৃতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে কার্ল মার্ক্সের একটা কথা আছে এমন যে—আমরা কখনো প্রকৃতিকে জয় করতে পারব না। প্রকৃতিকে জয় করলে তার ক্ষতি হবে, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে। আজ করোনাভাইরাসের প্রকোপে আমরা যখন ঘরবন্দি, তখন মার্ক্সের এ কথাটা অনেক প্রাসঙ্গিক।’

কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের সুবিধা উল্লেখ করে অধ্যাপক শফিক-উজ জামান বলেন, এতে কৃষিপণ্যের দাম বাড়বে। কৃষক আরো টাকা পাবে। কৃষকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। মনে রাখতে হবে কৃষক একই সঙ্গে উৎপাদক ও শিল্পপণ্যের ক্রেতা।

শফিক-উজ জামান বলেন, উচ্চপ্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান একসঙ্গে চলে না। শ্রমিক ছাঁটাই না করে কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায় তা ভাবতে হবে। অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ, বৈচিত্র্যপূর্ণ কৃষিপণ্য তৈরি ও গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

অধ্যাপক আবুল বারকাতকে ‘প্রথাবিরোধী অর্থনীতিবিদ’ উল্লেখ করে মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বারকাত দেশের বর্তমান শিল্পায়নকে ‘বিপর্যয়কর শিল্পায়ন’ বলেছেন এবং ‘কল্যাণ শিল্পায়ন’ গঠনের কথা বলেছেন। এর জন্য ১৫টি সুপারিশ করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম সুপারিশ হলো—মানবায়ন, যা মানুষকে তার বাস্তু থেকে কখনো উৎখাত করবে না।

সূচনা বক্তব্যে জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাপী চলছে অর্থনৈতিক মহামন্দা। একই সঙ্গে কভিড-১৯-এর অপ্রতিরোধ্য প্রতাপ। বৈশ্বিক এই মহাদুঃসময়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি খুঁজছে?শোভন সমাজ, শোভন রাষ্ট্র, শোভন বিশ্বব্যবস্থা। সে কারণেই এই আয়োজন। আমাদের লক্ষ্য জ্ঞানভিত্তিক প্রভাবকের ভূমিকা পালন করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান এবং জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের ২০ বছরের গবেষণার ফসল ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র : ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও মুক্তবুদ্ধি প্রকাশনা।