kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

হেফাজত নেতা ইসলামাবাদী ৭ দিনের রিমান্ডে

►শাপলা চত্বরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার
► ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার আরেক বক্তা
► মামুনুলের তৃতীয় স্ত্রী নিয়েও চলছে গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেফাজত নেতা ইসলামাবাদী ৭ দিনের রিমান্ডে

হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক তাণ্ডব এবং মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে। আট বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় তাঁকে গত রবিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজিজুল হককে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে হেফাজতের বিক্ষোভ ও হরতাল থেকে হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি স্থানে তাণ্ডবের ঘটনার পর এই প্রথম সংগঠনটির কোনো শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

ময়মনসিংহে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে একই দিন নওমুসলিম খ্যাত ইসলামিক বক্তা ওয়াসিক বিল্লাহ নোমানীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাঁকে এক দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় রয়াল রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

অন্যদিকে শাহজাহান নামের গাজীপুরের কাপাসিয়ার এক যুবক তাঁর বোন জান্নাতুল ফেরদৌস লিপিকে মামুনুল হক বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বোন তিন দিন ধরে নিখোঁজ জানিয়ে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বালুচড়া এলাকা থেকে রবিবার রাত ২টার দিকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও র‌্যাবের যৌথ দল আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তার করে। ২০১৩ সালের ৫ মে নাশকতার ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি আজিজুল হককে গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আজিজুল হক হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় যোগ দিতে হাটহাজারী গিয়েছিলেন। গতকাল সংগঠনটির আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী তাঁকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া এবং নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে আটক হওয়া হেফাজতের সহ-অর্থ সম্পাদক মুফতি ইলিয়াস হামিদিসহ সারা দেশে গ্রেপ্তার হওয়া সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তারের পর হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মামুনুল হকের কথিত দুই স্ত্রীকে খোঁজার পাশাপাশি তাঁর ওপরও নজরদারি করা হচ্ছে।

মামুনুল হক সোনাগাঁয় রিসোর্টে যে নারীসহ অবরুদ্ধ হয়েছিলেন তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। জান্নাত আরা ঝর্ণার ছেলে তাঁর মা নিখোঁজ জানিয়ে জিডি করেছে।

আমাদের সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সভাপতি ইকবাল হোসেন, হেফাজতের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার আমির মহিউদ্দিন খান, সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি শাহজাহান খান শিবলী ও সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন র‌্যাব-১১-এর কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, ৩ এপ্রিল মামুনুলকে রয়াল রিসোর্টে আটকের পর ইকবালের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর করা হয়। তিনি মাইকে উসকানিমূলক ঘোষণাও দেন।

ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গত ২৯ মার্চ ওয়াসিক বিল্লাহ নোমানীর ইসলামী সভার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে নোমানী সরকারবিরোধী, রাষ্ট্র ও সমাজে বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে উসকানি ছড়িয়েছেন। এই অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার।

এর আগে ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।