kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

চিকিৎসক জানালেন

জটিলতা নেই খালেদা জিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জটিলতা নেই খালেদা জিয়ার

করোনায় আক্রান্ত খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘স্থিতিশীল এবং উনি যথেষ্ট ভালো আছেন’ বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। গতকাল সোমবার বিকেলে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে আসার পর মেডিক্যাল বোর্ড তথা তাঁর চিকিৎসকদলের প্রধান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাসায় যাওয়া চিকিৎসকদের সঙ্গে খালেদা জিয়া বেশ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার তো কোনো উপসর্গ ছিল না। ওদের (বাসার আট স্টাফ) করোনা ধরা পড়ার কারণে আমার নমুনাও পরীক্ষা করাতে হয়েছে।’ ওই সূত্র মতে, নিশ্চিত হওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার নমুনা পৃথক জায়গা থেকে দুইবার পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে ফলাফল পজিটিভই এসেছে।

খালেদা জিয়ার অনুরোধে বাসায় আক্রান্ত তাঁর নার্স ও বাবুর্চিসহ সবাইকে পরীক্ষা করে মেডিক্যাল টিম। তবে তাঁদের কারোরই কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা নেই। আক্রান্ত অবস্থায় পিপিই পরে বাবুর্চিরা রান্না করছেন। তবে আত্মীয়-স্বজনসহ বাইরের কেউই এখন ফিরোজায় যাচ্ছে না। বাসা এখন লকডাউনের মতো পরিস্থিতি করে রাখা হয়েছে।

সূত্র মতে, রাজধানীর ইউনাইটেড, এভারকেয়ার ও স্কয়ার—এই তিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা কথা বলে রেখেছেন। প্রয়োজন হলে এর যেকোনো একটিতে খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ ছাড়া এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চিকিৎসকদল লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের দুজন কনসালট্যান্ট ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছে।

চিকিৎসকদলের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভেতরে এক ঘণ্টা ছিলাম। এর মধ্যে ম্যাডাম একবারও কাশি দেননি।’   

মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত বলব, উনার অবস্থা খুবই স্থিতিশীল। আজকে পর্যন্ত উনি যথেষ্ট ভালো আছেন। উনি স্পিরিটেড আছেন। আশা করছি, যদি এভাবে আরো এক সপ্তাহ পার হওয়া যায়, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা বিপদ থেকে মুক্ত হয়ে যাব।’

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোন পর্যায়ে জানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত উনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো আছে বলে মনে হচ্ছে।’ খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, কভিডে আনসারটেনিটি আছে। যদি কখনো বিন্দুমাত্র আমাদের মনে হয় যে, তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার, সেই মুহূর্তে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাব।’

বিকেল ৫টায় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা ‘ফিরোজায়’ প্রবেশ করেন। এ সময় অনলাইনের মাধ্যমে আরো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং লন্ডন থেকে ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও যুক্ত হন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে অধ্যাপক সিদ্দিকী কথা বলার সময় চিকিৎসকদলের সদস্য বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুস শাকুর খান, ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. মো. আল মামুন পাশে ছিলেন। গত শনিবার খালেদা জিয়ার নমুনা পরীক্ষা শেষে রবিবার তাঁর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।