kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

আল্লামা শফীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বাবুনগরীসহ ৪৩ জনের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বাবুনগরীসহ ৪৩ জনের নাম

হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীসহ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে মামলাটির দায়িত্ব পাওয়ার পর পরিদর্শক মনির হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আদালতে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাদী আদালতে যে মামলা করেছিলেন, সেখানে বিবাদীর নাম ছিল ৩৬ জনের। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা আরো কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ৪৩ জনের নাম যুক্ত হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।’

আদালত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহমদ শফী ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর গত ১৭ ডিসেম্বর শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলা করেন। সেই মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশনা দেন আদালত। মামলার বাদী আদালতে দাখিল করা এজহারে যে তথ্য উল্লেখ করেছিলেন তার অংশবিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার ছাত্ররা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। সেই সময় মাদরাসায় অবরুদ্ধ করা হয় অসুস্থ আল্লামা শফীকে। হেফাজত আমিরকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। সময়মতো অক্সিজেন না পাওয়ায় আল্লামা শফী কোমায় চলে যান। ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জ্ঞান ফিরে না আসায় মেডিক্যাল বোর্ড তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর শফী মারা যান।

তদন্তে পাওয়া এজহারবহির্ভূত বিবাদীর তালিকায় রয়েছেন হেফাজতের বর্তমান আমির মো. জুনাইদ প্রকাশ জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা শফিউল আলম, শিব্বির আহাম্মদ, আবু সাঈদ, হোছাইন আহাম্মদ, তাওহীদ প্রকাশ তৌহিদ, এরফান, মো. মামুন, আমিনুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মোহাম্মদ।

এ ছাড়া বাদীর এজহারে উল্লিখিতদের মধ্যে যাঁদের নাম তদন্ত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা হাবিব উল্লাহ আজাদী, আহমদ উল্লাহ, জাকারিয়া নোমা ফয়েজী, মো. আব্দুল মতিন, মো. শহীদুল্লাহ, মো. রিজুয়ান আরমান, হাসানুজ্জামান, এনামুল হাসান ফারুকী, মাওলানা মীর সাজেদ, মাওলানা জাফর আহমদ, মাওলানা মীর জিয়া উদ্দিন, মাওলানা আহমদ, মাওলানা মাহমুদ, আসাদ উল্লাহ, জুবাইর মাহমুদ, হাফেজ জুনায়েদ আহমদ, মাওলানা সাদেক জামিল, কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসান, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ওবাইদ, জুবাইর, মাওলানা মুহাম্মদ, আমিনুল হক, মো. রাসেল চৌধুরী, মবিনুল হক, মোহাম্মদ নাঈমুল ইসলাম খান ও হাফেজ সায়েম উল্লাহ।