kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দৃষ্টিতে দক্ষিণ এশিয়া

চীনের সঙ্গে সম্পর্কে বদলাবে সমীকরণ!

মেহেদী হাসান   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের সঙ্গে সম্পর্কে বদলাবে সমীকরণ!

মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বর্ধনশীল মেরুকরণ আগামী পাঁচ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন শাসনব্যবস্থার রীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়লে এই অঞ্চলের দেশগুলো ভারতের প্রত্যাশাকে ততটা গুরুত্ব না-ও দিতে পারে। তবে ভারত এই অঞ্চলসহ বঙ্গোপসাগরে চীনের প্রভাব কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এই অঞ্চলের সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাইবে, এমন সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।

আগামী পাঁচ বছরের পূর্বাভাসে প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ এই অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে অনেক দেশ সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করবে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়াকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হতে পারে। এগুলো কিছু রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনের দক্ষিণ এশিয়া অংশে একটি আন্তর্জাতিক এনজিওর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ২৭ কোটির বেশি ভারতীয় দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বিগত বছরগুলোতে দেশটির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠী এখন বিশ্বের সঙ্গে আরো বেশি সম্পৃক্ত। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে চীনের পর সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ভারতে (৭০ কোটির বেশি)। 

তবে এসব অগ্রগতির কিছু কিছু স্থবির হয়ে যেতে পারে এবং আগামী পাঁচ বছরে অগ্রগতির বদলে অবনতিও হতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে। করোনা মহামারিসহ আরো কিছু কারণে আগামী পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে মহামারি-পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের বর্ধিত কর্মশক্তিকে কাজে লাগানো কঠিন হবে।

জলবায়ু ও পরিবেশগত কারণে লোকজনের ঢাকায় চলে আসার ঝুঁকির কথাও রয়েছে প্রতিবেদনে। ঢাকায় বিশাল ও বসবাসের অযোগ্য বসতি পানিবাহিত নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই অঞ্চলে পানি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেও ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিবেদনে ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের ব্যর্থতা এবং বাংলাদেশ সৃষ্টির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। আগামী দশকগুলোতে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সংকট বাড়তে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব সরকারই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় রপ্তানিবাজার যুক্তরাষ্ট্র। বেশির ভাগ দক্ষিণ এশীয় নেতাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক দেখাতে চাইবেন। আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কাকে এই অঞ্চলের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা।