kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

বাবুইয়ের ছানার প্রতি নৃশংসতা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবুইয়ের ছানার প্রতি নৃশংসতা

বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,/‘কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই,/আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে/তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।’

বাবুই হাসিয়া কহে, ‘সন্দেহ কি তায়?/কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।/পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,/নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।’

যুগ যুগ ধরে বাবুই পাখিকে নিয়ে কবি রজনীকান্ত সেনের এই কবিতা নানা তুলনা প্রতিতুলনায় ব্যবহার করে আসছে মানুষ। নিরীহ পাখি বাবুই আরো নিরীহ ভাষায় চড়াইয়ের প্রতিতুলনায় বলে—কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায় কিংবা নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা। এত ছাড়ের পরও পারা গেল না। নিজ হাতে গড়া ঘর সন্তানসহ পুড়িয়ে দেওয়া হলো।

ঝালকাঠির ঈশ্বরকাঠি গ্রামে তালগাছে নিপুণ কারুকাজে বাসা তৈরি করেছিল বাবুই পাখি। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় সয়ে সেসব বাসায় জন্ম নিয়েছিল ৩৩টি বাবুইয়ের ছানা। নিষ্ঠুর মানুষ সেই বাসায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে ওই ৩৩টি বাবুইয়ের ছানা।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রাম। ওই গ্রামে গত শুক্রবার দুপুরে এই নিষ্ঠুর ঘটনাটি ঘটে। ঈশ্বরকাঠি গ্রামের জালাল সিকদারের অভিযোগ, তাঁর ক্ষেতের ধান খায় পাখি। ফলে ওই এলাকার সিদ্দিক মার্কেটের সামনে যে তালগাছ রয়েছে, সেখানে শতাধিক বাবুই পাখির বাসায় বাঁশের মাথায় মশাল জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। এতে পুড়ে মরে ৩৩টি বাবুইয়ের ছানা।

স্থানীয় এক তরুণ ঘটনার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে গতকাল শনিবার বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জালাল সিকদারের দেওয়া আগুনের তাপে বড় বাবুই উড়ে যেতে পারলেও ছানাগুলো যেতে পারেনি। ফলে সব কটি ছানা পুড়ে ছাই হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস মল্লিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিষ্ঠুর এই ঘৃণ্য কাজ মানুষ করতে পারে, ভাবতেই অবাক লাগছে। বাবুই পাখির ছানাগুলোর অপরাধ কী?’

ঝালকাঠি সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখব।’

বাবুই পাখির বাসায় আগুন দেওয়া জালাল সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিন আমার ক্ষেতের ধান খায় পাখি। এতে আমি আর্থিক লোকসানের দিকে যাচ্ছিলাম। মাথা গরম থাকায় বাসা নষ্ট করেছি। আমি অনুতপ্ত।’