kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

জীবন ও জীবিকার সমন্বয় করতে হবে

ফারুক হাসান

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবন ও জীবিকার সমন্বয় করতে হবে

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য স্মরণকালের একটি খারাপ সময় পার করছে। এই সময়ে জীবনের জন্য যেমন জীবিকার প্রয়োজন, একই সঙ্গে জীবনকেও প্রাধান্য দিতে হবে। একটি অন্যটির পরিপূরক। এ জন্য সতর্কতার সঙ্গে সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সমন্বিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে আজ বড় লোকসানের মুখে পড়েছে দেশের বেশির ভাগ রপ্তানি আয়ের খাত ও শ্রমঘন বড় শিল্পের খাত তৈরি পোশাক শিল্প। ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রায় ৪০ লাখ কম শিক্ষিত নারী কর্মী আর দেশের প্রায় তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত।

সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে, গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) নিট পোশাকে ভর করে রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আয় কমেছে আড়াই শতাংশের বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। এই সময়ে আয় হয়েছে দুই হাজার ৩৮৪ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে ছিল দুই হাজার ৪১০ কোটি ডলার।

এদিকে বিভিন্ন দেশে কভিডের দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন করে লকডাউনে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশে বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের কড়াকড়ি। ফলে কিছুটা রক্ষণশীল নীতি নিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের ক্রেতারা।

বলা যায়, সার্বিকভাবে তৈরি পোশাক খাতের সংকট যেন কাটছেই না। এরই মধ্যে ক্রয়াদেশ কমাতে শুরু করেছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আগামী জুন থেকে শুরু হওয়া নতুন মৌসুমের জন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম কার্যাদেশ পেয়েছেন উদ্যোক্তারা।

এ ছাড়া গত বছরের শীত ও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের পোশাকের বড় একটা অংশ রয়ে গেছে রপ্তানিকারকদের কাছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পুরনো পণ্যর সঙ্গে নতুন পণ্যের স্টকলট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুধু লকডাউনই নয়, বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে পণ্য পরিবহনের কনটেইনারসংকটও। এর ফলে পণ্য পরিবহনে অস্বাভাবিক ব্যয় বেড়েছে। এই অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম কম দিতে চান ক্রেতারা। শুধু তা-ই নয়, মূল্য পরিশোধেও করছেন গড়িমসি। কেউ কেউ আবার ডিসকাউন্ট চান। ডিসকাউন্ট না পেলে বিল পরিশোধে হচ্ছে বিলম্ব।

তবে সংকটেও সম্ভাবনা আছে। অনেকটা যেন আঁধারের পর আলো। তাই সংকট উত্তরণে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিতে হবে। কারখানাগুলো আরো সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে চালাতে হবে। সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কারখানা চালাতে হবে। তবেই জীবন ও জীবিকার সমন্বয় থাকবে।

আশার কথা, কভিডের প্রথম ধাপে নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হয়েছিল। ফলে সেই সময় শ্রমিকদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ খুব একটা দেখা দেয়নি। যা হয়েছিল, সেটাও একেবারে নগণ্য সংখ্যায়। তাই এবারও এর ব্যত্যয় করা যাবে না।

সামনে বাজেটে সরকারের নীতি সহায়তা চাওয়া হবে। এতে প্রাধান্য দেওয়া হবে আগামী দুই বছরের জন্য উৎস কর না থাকা, নতুন বাজারের প্রণোদনা ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা। এর ফলে নতুন বাজার আরো বাড়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বাড়বে। ম্যান মেইড ফাইবার রপ্তানিতে আমাদের সক্ষমতা কম। সেখানে ১০ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া গেলে রপ্তানি অনেক বেড়ে যাবে।

কভিড কেটে গেলেও বৈশ্বিক বাণিজ্য আগের মতো থাকবে না। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিও আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য বিজিএমইএ সদস্য কারখানাগুলোকে আরো পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী করে তুলতে হবে।

এ ছাড়া অটোমেশন ভালোভাবে করতে পারলে পণ্যের মূল্যে সংযোজন হবে। ফলে রপ্তানিও বাড়বে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে বাংলাদেশের পোশাক খাত।

লেখক : জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএ নেতা

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা